© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ছেলেবেলার ঈদের প্রধান রোমাঞ্চ ছিল সালামি: শান্ত

শেয়ার করুন:
ছেলেবেলার ঈদের প্রধান রোমাঞ্চ ছিল সালামি: শান্ত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪১ পিএম | ২০ মার্চ, ২০২৬
ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবারের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো আর ছোটবেলার স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া। বয়স বাড়লেও সেই শৈশবের ঈদ অনেকের মনেই রয়ে যায় বিশেষ এক অনুভূতি হয়ে।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে এখন অনেক সময় পরিবারের বাইরে ঈদ কাটাতে হলেও ছোটবেলার ঈদের স্মৃতি আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত-এর মনে।

রাজশাহীর ছেলে শান্তর বেড়ে ওঠা শহরের কাছের রংহাট গ্রামে। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই ছোটবেলায় তিনি রাজশাহী শহরে এসে ভর্তি হন ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি-তে। কোচ রফিকুল ইসলাম-এর হাত ধরে শুরু হয় তার ক্রিকেটযাত্রা। তবে ঈদ এলেই টান থাকত গ্রামের বাড়ির প্রতি।

শৈশবের ঈদের কথা বলতে গিয়ে শান্ত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিলেন ‘ঈদের সালামি’র কথায়। তাঁর ভাষায়, ‘আমার বেড়ে ওঠা রাজশাহীর রংহাট গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই সেখানে সব ভাই-বোন ও কাজিনরা মিলে আনন্দ করতাম। সবাই দলবেঁধে ঈদের খুশি ভাগ করে নেওয়ার মাঝে অন্যরকম এক আনন্দ ছিল। তবে ২০০৭ সালে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আমি প্রথম রাজশাহী শহরে আসি। ভর্তি হই ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে। তবে ঈদের সময় ঠিকই বাড়ি চলে যেতাম।’



পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদ করার স্মৃতিও এখনো খুব স্পষ্ট শান্তর মনে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জয়েন্ট ফ্যামিলি ছিল। আব্বারা চার ভাই, সবাই মিলে একসাথে ঈদ করতাম। সেখান থেকে ছুটিতে নানা বাড়িও ঘুরতে যেতাম। ছোটবেলায় ঈদের সবথেকে এক্সাইটিং পার্ট ছিল ঈদের সালামি। মনে মনে একটা দারুণ উত্তেজনা কাজ করত যে কার কাছ থেকে কত সালামি পাব।

সালামি পাওয়ার পর সবাই মিলে একসাথে খাওয়া-দাওয়া, গল্প আর ঘোরাঘুরি করেই দিন কাটত।’

ক্রিকেটে বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিবারের বাইরে ঈদ কাটানোর অভিজ্ঞতা শুরু হয় শান্তর। তিনি জানান, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলতে গিয়েই প্রথম দেশের বাইরে ঈদ করতে হয়েছিল।
‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে গিয়েই আমি প্রথমবার পরিবার ছাড়া দেশের বাইরে ঈদ করি। সেটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ-এ। পরে ইংল্যান্ড-এও একবার ঈদ করতে হয়েছে। সত্যি বলতে, তখন অনেক ছোট ছিলাম বলে প্রফেশনালিজম অতটা বুঝতাম না। তাই পরিবার ও বাড়ির কথা খুব মনে পড়ত, খুব মিস করতাম।’

বিদেশে কাটানো এক ঈদের তিক্ত স্মৃতিও আছে তাঁর। শান্ত বলেন, ‘ঈদের দিন সম্ভবত ভারত-এর সঙ্গে খেলা ছিল। দুর্ভাগ্যবশত আমরা হেরেছিলাম। এখনো সেই হারের স্মৃতি মনে পড়লে খুব মন খারাপ হয়। বারবার মনে হয়, ঈদের দিন যেন কোনো খেলা না পড়ে।’

এখন অবশ্য জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে বিদেশে ঈদ কাটানো তাঁর কাছে অনেকটাই স্বাভাবিক। শান্তর কথায়, ‘এখন জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গেলে ফরেন ট্যুর করতেই হয়।

এখন আর খারাপ লাগে না, অভ্যাস হয়ে গেছে। পেশার জায়গা থেকে সবকিছু প্র্যাকটিক্যালি নিতে শিখে গেছি। তাছাড়া আমাদের ড্রেসিংরুমের বন্ডিং খুব ভালো। আমরা সবাই একটা ফ্যামিলির মতোই থাকি।’

জাতীয় দলে ঈদের একটি আলাদা স্মৃতিও শেয়ার করেছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘নাজমুল হাসান পাপন স্যারের সময় আমরা যারা জাতীয় দলে খেলেছি, প্রত্যেক ঈদে সালামি পেতাম। আমরা যেখানেই থাকতাম না কেন, আমাদের সবার কাছে ঈদের সালামি পৌঁছে যেত। এটা দারুণ একটা ব্যাপার ছিল।’

এবারের ঈদ অবশ্য নিজের বাড়িতেই কাটাবেন শান্ত। রাজশাহী শহর থেকে অল্প পথের রংহাট গ্রামে চাচাতো ভাইবোনদের সঙ্গে আবারও জমবে আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া আর পারিবারিক আনন্দ।

এমআই/এসএন  

মন্তব্য করুন