ঈদের অনুষ্ঠানে মোদিকে অনুপ্রবেশকারী বললেন মমতা
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৪৪ পিএম | ২১ মার্চ, ২০২৬
৩০ দিন সিয়াম সাধনার পর আজ খুশির ঈদ! ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, ভারত জুড়ে আজ আজ উৎসবের আবহে ঈদ উদযাপন করা হয়ছে।বৃষ্টি উপেক্ষা করেইকলকাতায় ঈদের বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত হয় রেড রোডে। প্রতিবছরের মত সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেড রোডের জামাত থেকে বাংলার সম্প্রীতি রক্ষার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই সবথেকে বড় অনুপ্রবেশকারী।’
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ কলকাতার রেড রোডে ঈদ-উল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার মুসল্লী পবিত্র ঈদ-উল-আজহার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তারা একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রতিবারের মতই রেড রোডের নামাজে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার মমতার সঙ্গে ছিলেন তার ভাতিজা ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে যখন বৃষ্টির ঝাপটায় শহর ভিজছে, তখন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী এই বৃষ্টিকে ‘ঈশ্বরের আশীর্বাদ’ বলে অভিহিত করেন।
তবে নির্বাচনী আবহে ঈদের দিনেও রাজনীতির বাইরে থাকতে পারলে না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অধিকার আমার মোদীজিকে ছিনিয়ে নিতে দেব না। আমাদের একটাই কাজ। আপনি সৌদি আরবে গিয়ে হাত মেলান। মিলিয়ে আসুন। আমি সব দেশকে পছন্দ করি। আমি আমার ভারতকে নিয়ে গর্বিত। আমি বিশ্বকে নিয়ে গর্বিত। শান্তির জন্য এই বার্তা পুরো দুনিয়ার কাছে ছড়িয়ে পড়ুক। আপনি যখন দুবাইয়ে যান….দুবাই আমাদের ভারতের বন্ধু...আপনি যখন ওখানে গিয়ে বন্ধুত্ব তৈরি করেন, গলা মেলান, তখন আপনার কোনও যায় আসে না যে ওরা হিন্দু নাকি মুসলিম? আর ভারতে এসে আপনি ভুলে যান। আপনি বলেন, এর নাম কেটে দাও, ওর নাম কেটে দাও, এরা সব অনুপ্রবেশকারী। আমি তো বলব, আপনি সবথেকে বড় অনুপ্রবেশকারী।’
রেড রোড ছাড়াও এদিন সকাল থেকে কলকাতার নাখোদা মসজিদ, টিপু সুলতান মসজিদ, পার্ক সার্কাস ময়দানসহ বিভিন্ন মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি দিল্লি, হায়দরাবাদ, মুম্বাই উত্তরপ্রদেশ, অসম, ত্রিপুরা, জম্মু কাশ্মীর, বিহারসহ দেশের প্রতিটি জায়গায় যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছেপবিত্র ঈদুল ফিতর। তবেসকাল থেকেই খারাপ আবহাওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ,আসাম, মেঘালয়ের বেশ কিছু এলাকায় ঈদের নামাজ পড়তে সমস্যার সম্মুখীন হন মুসল্লিরা।
ভারতের অন্যতম বৃহৎ দুই মসজিদ- রাজধানী দিল্লির জামে মসজিদ ও লখনৌর রুমি দারওয়াজায় নামাজে অংশ নিয়েছে লাখো মানুষ। ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইতে, জুমা মসজিদ এবং মাহিম দরগার মতো ধর্মীয় স্থানগুলিতে বিশাল জামাত দেখা গেছে। রাজস্থানের আজমিরে, ভক্তরা খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর শ্রদ্ধেয় মাজারে প্রার্থনা এবং উৎসব উদযাপনের জন্য সমবেত হন লক্ষাধিক মুসল্লি।
ঐতিহ্যবাহী ঈদের জামাতে ভারতের সব রাজ্যের মসজিদগুলোতে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আহমেদাবাদ জামে মসজিদ, থিরুভানানথাপুরমের পালায়াম জামে মসজিদ, পাঞ্জাবের অমৃতসরে খায়রুদ্দিন মসজিদ, মুম্বাইয়ের মহিম দরগাতেও ছিল ব্যাপক জনসমাগম।
দেশজুড়ে ঈদ উপলক্ষে কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরাসহ রাজনৈতিক নেতারা। এদিকে ঈদ উপলক্ষে সীমান্তে মিষ্টি বিনিময় করেছে ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
আইকে/টিকে