© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হাদি হত্যা / আরও ১২ দিনের জেল হেফাজতে ফয়সাল ও আলমগীর

শেয়ার করুন:
আরও ১২ দিনের জেল হেফাজতে ফয়সাল ও আলমগীর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪৩ পিএম | ২২ মার্চ, ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনের ১২ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের (জেল হাজত) নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় আদালত। রোববার (২২ মার্চ) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয় এই দুই অভিযুক্তকে।

এদিন আদালত তাদের ১২ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। সেক্ষেত্রে আগামী ২ এপ্রিল তাদের ফের আদালতে তোলা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আগেই ১৪ ফরেনারস আইনে মামলা দায়ের করা ছিল। এছাড়া আজ নতুন করে অন্য একটি মামলায় 'আনলফুল এক্টিভিটিস (প্রিভেনশন) আইন' বা ইউএপিএ আইনের ১৬ এবং ১৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কারাগারে গিয়ে তাদের জেরা করার আবেদনও করেছে। আদালত তাতে সম্মতি দিয়েছে। সেক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থে ফয়সাল ও আলমগীরকে কারাগারে গিয়ে জেরা করা হবে। সেক্ষেত্রে অভিযুক্তদের এই ধারায় সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে।

রোববার আদালতের নির্দেশের পর যখন অভিযুক্তদের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেসময় সংবাদ মাধ্যমের সামনে ফয়সাল বলেন, 'আমি এই ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত নই।' তাকে প্রশ্ন করা হয় তুমি কি খুন করেছিলে? সে জানায় 'না'। পরে সে জানায় এটা জামায়াত-বিএনপির একটা চাল হতে পারে।

জামায়াতের কে এর সাথে জড়িত, এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল বলেন, 'সেটা আমি জানি না।' এসময় স্থানীয় গণমাধ্যমেরকর্মীদের উদ্দেশ্যে ফয়সাল বলেন, 'আপনারা যে হাদি হাদি করছেন, বাংলাদেশের মানুষ যে হাদি হাদি করছে, হাদিতো আসলে জামায়াতের প্রোডাক্ট। ও তো একটা জঙ্গি।' তবে কে খুন করেছিল? তার উত্তরে বলেন 'আমি করি নি। অন দ্যা স্পটে আমি ছিলাম না। আমাকে গুলি করতে দেখা যায়নি। এই ঘটনায় জামাত বিএনপির কাজ হতে পারে।'

যদিও এর আগে আদালতে তোলার সময় ফয়সাল জানিয়েছিলেন, তিনি এই কাজ করেননি।

এর আগে, তাকে বিধান নগর মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবশ্য কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

উল্লেখ্য, ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে অভিযুক্ত দুজনকেই বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী এলাকায় এবং ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়।

ওই দুই অভিযুক্ত অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিলেন। সুযোগ বুঝে ফের তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার অপেক্ষায় ছিল বলে এসটিএফ সূত্রে সূত্রের খবর।

এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন দুজনেই হাদি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা উভয়ই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিধান নগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই রিমান্ড শেষে আজ ফের তাদের আদালতে তোলা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদিকে গুলি করে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৩০ মিনিটে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এমআই/টিকে

মন্তব্য করুন