© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৭ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে উদ্ধার অভিযান তদারকি করলেন প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
৭ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে উদ্ধার অভিযান তদারকি করলেন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৫৪ পিএম | ২৩ মার্চ, ২০২৬
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সাঁকো ভেঙে ৫ শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় টানা প্রায় ৭ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ১৭ বছর পর নিজ এলাকায় আসেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠনের পর তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন বিকেল ৪টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সাঁকো ভেঙে ৫ শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে পৌঁছে দলীয় নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

উদ্ধার কার্যক্রম টানা প্রায় ৭ ঘণ্টা চলে। এ সময় হালকা বৃষ্টির মধ্যেই নদী থেকে একে একে শিশুদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুদের পরিবারের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রীকেও চোখ মুছতে দেখা যায়।

রাত ৯টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধে তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে এসেছি। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তার আগেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়ে সন্তানদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে আমি এলাকায় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকব।’

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও শোকবার্তা পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ জানান এবং দ্রুত নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন।

স্থানীয় মনিরুল ইসলাম জানান, প্রতিমন্ত্রী পুরো সময় বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড়িয়ে উদ্ধার কাজ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার শেষে রাতেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না, তিনি যেন সন্তানহারা বাবা-মায়ের মতোই কষ্ট পেয়েছেন।’

জানা গেছে, ঈদের দিন পরিত্যক্ত ড্রামের ওপর নির্মিত সাঁকোতে অতিরিক্ত লোকজন ওঠার কারণে সেটি ভেঙে পড়ে, এতে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

টিকে/

মন্তব্য করুন