© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বর্জ্যের অব্যবস্থাপনার কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি : ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

শেয়ার করুন:
বর্জ্যের অব্যবস্থাপনার কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি : ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:১১ পিএম | ২৪ মার্চ, ২০২৬
‎পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বিএনপি গ্রাসরুট নেটওয়ার্কের প্রধান ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

তিনি বলেন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। খাদ্যবর্জ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা থেকে তৈরি জীবাণু ও বিষাক্ত উপাদান মাটি, পানি ও বায়ুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। এসব বর্জ্য ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে মাছের শরীরে জমা হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের খাদ্যচক্রে ঢুকে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

‎মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে ৪টায় ঝালকাঠি শহরের বড় বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মালিক সমিতির আয়োজনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন উপলক্ষে পরিকল্পনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।‎

‎ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিশোধিত বর্জ্য থেকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ছড়িয়ে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, চর্মরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।‎

‎তিনি বলেন, বর্জ্যের কারণে নদী-খাল ভরাট হয়ে প্রাকৃতিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে, জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। অনেক সময় গবাদিপশু ও পাখি প্লাস্টিক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে বা মারা যায়। ফলে পরিবেশের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হচ্ছে।

‎তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য মাইক্রোপ্লাস্টিকসহ ক্ষতিকর বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করে খাদ্যচক্র ও পরিবেশকে নিরাপদ রাখা।

‎ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এই সমস্যা সমাধানে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করা জরুরি। প্রতিটি ঘরে ঘরে মানুষকে সচেতন করতে হবে, যাতে সবাই নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলে। স্থানীয় সরকার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

‎তিনি আরও বলেন, বর্জ্য আলাদা করা (জৈব ও অজৈব), পুনর্ব্যবহার এবং আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ চালু করতে পারলে এই সংকট অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‎জানা গেছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বড় বাজারের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা নিশ্চিত করা এবং বাজারের মাছ, মাংস ও সবজি অংশ পরিষ্কার করার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

‎পরিকল্পনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, জেলা জামায়াত ইসলামির আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, ‎অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন, ঢাকা শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. খালিদ মাহমুদ শাকিলসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ, বিএনপির নেতাকর্মী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির আয়োজন করে ঝালকাঠি বড় বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।

আরআই/এসএন

মন্তব্য করুন