৭.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫০ এএম | ২৫ মার্চ, ২০২৬
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের টোঙ্গার কাছে ৭.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। এর পরপরই উপকূলীয় এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৩৭ কিলোমিটার (১৪৮ মাইল) গভীরে। সাধারণত কম গভীরতার ভূমিকম্পগুলো ভূপৃষ্ঠে তীব্রভাবে অনুভূত হয়, গভীরতা বেশি হওয়ায় তীব্রতা খুব বেশি না ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সমুদ্রের গভীরে, যা দ্বীপরাষ্ট্রটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নিয়াফু থেকে ১৫৩ কিলোমিটার (৯৫ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত।প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
টোঙ্গার ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অফিস নিচু দ্বীপের বাসিন্দাদের অবিলম্বে উঁচু স্থান বা দেশের ভেতরের দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের সমুদ্র সৈকত, তীরবর্তী এলাকা এবং নিচু উপকূলীয় অঞ্চলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
ইউএসজিএস এ অঞ্চলের জন্য কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করেনি। হাওয়াইভিত্তিক প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার এক বুলেটিনে জানিয়েছে, সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
১৭১টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গায় ১ লাখের কিছু বেশি মানুষ বসবাস করেন, যাদের বেশিরভাগই প্রধান দ্বীপ টোঙ্গাটাপুতে বাস করেন। মঙ্গলবারের ভূমিকম্পটি ভাভাউ দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি বেশি অনুভূত হয়েছে।
টোঙ্গাটাপু দ্বীপে অবস্থিত নুকুয়ালোফার সমুদ্রতীরবর্তী একটি হোটেলে যোগাযোগ করা হলে একজন কর্মী জানান, কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা তার জানা নেই।
তিনি বলেন, পুরো ভবনটি কেঁপে উঠেছিল। তবে কোনো ক্ষতি হয়নি। সবকিছু ঠিক আছে।
টোঙ্গা প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত দেশ। এটি একটি সক্রিয় সিসমিক এলাকা, যেখানে বিশ্বের বেশিরভাগ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ঘটে। ২০২২ সালে অগ্নুৎপাত থেকে সৃষ্ট সুনামিতে দেশটিতে তিনজন নিহত হয়েছিলেন।
নিউজিল্যান্ড থেকে দ্বীপরাষ্ট্রটির অবস্থান প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার (১,১০০ মাইল) উত্তর-পূর্বে। নিউজিল্যান্ডের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সেখানে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
এমআর/এসএন