ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সিদ্ধান্ত সঠিক: কিম জং উন
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৩ পিএম | ২৫ মার্চ, ২০২৬
কিম জং উন বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়’ পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া চাপ এবং তাদের ‘মিষ্টি কথা’ প্রত্যাখ্যান করে উত্তর কোরিয়া সঠিক কাজ করেছে।
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধই প্রমাণ করে তার দেশের পারমাণবিক অস্ত্র ধরে রাখার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্ট 'সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি'-তে দেওয়া এক ভাষণে কিম ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে 'রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাস ও আগ্রাসনের' অভিযোগ তোলেন।
কিম জং উন বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়' পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া চাপ এবং তাদের 'মিষ্টি কথা' প্রত্যাখ্যান করে উত্তর কোরিয়া সঠিক কাজ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মর্যাদা এখন 'অপরিবর্তনীয়'।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান আমেরিকার জন্য একটি 'আসন্ন' হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এর কয়েক মাস আগেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে 'পুরোপুরি ধ্বংস' করে দিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের কাছে ইরান সংঘাত এই দীর্ঘদিনের বিশ্বাসকেই আরও মজবুত করেছে, যেসব দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই তারা মার্কিন সামরিক শক্তির মুখে অনেক বেশি অরক্ষিত। আর যাদের কাছে এই অস্ত্র আছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ ঠেকানোর ক্ষমতা রাখে।
কিমের এই মন্তব্যের সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প সম্প্রতি কিমের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ২০১৯ সালে ভেস্তে গিয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীও ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠক করেছেন। কর্মকর্তাদের মতে, সেই আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আবারও কূটনীতি শুরু করা এবং পিয়ংইয়ংয়ের অস্ত্র উন্নয়নের বিরুদ্ধে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে কিমের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয়, ভবিষ্যতে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বৈঠক হলেও তার ধরণ হবে আগের শীর্ষ সম্মেলনগুলো থেকে একেবারেই আলাদা। কিম ট্রাম্পের সঙ্গে বসতে রাজি হলেও তার শর্ত হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়াকে একটি 'পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র' হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া 'শত্রুতামূলক নীতি' ত্যাগ করতে হবে।
উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি বেশ কিছু শক্তিশালী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম রকেটের মহড়া উল্লেখযোগ্য।
টিজে/টিকে