ইরানের অবস্থান আগের চেয়ে শক্ত হয়েছে বলে মনে করছে তেহরান
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২০ পিএম | ২৫ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর আলোচনায় ইরানের অবস্থান আগের চেয়ে শক্ত হয়েছে বলে মনে করছে তেহরান। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা কঠিন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চলছে। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা এসব দাবি অস্বীকার করেছেন। তাদের মতে, তেলের দাম কমাতে এটি ভুয়া প্রচারণা।
আলজাজিরাকে দুই কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগের একটি চ্যানেল তৈরি করেছে। তবুও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। কারণ দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তাদের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেন্টাগনের মতে, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। তবে ইরান এখনও নির্ভুলভাবে হামলা চালাতে সক্ষমতা দেখিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির। বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
সম্প্রতি কাতারের প্রধান গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। এতে দেশটির রপ্তানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ইসরাইলের আরাদ ও ডিমোনা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ১৮০ জনের বেশি আহত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের লক্ষ্য এখন শুধু যুদ্ধবিরতি নয়। তারা চায় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা। ইরান এখন নতুন কিছু শর্ত সামনে আনছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিপূরণ, ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের নতুন নিয়ম। বিশ্লেষক নিগার মোর্তাজাভি বলেন, ইরান নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ক্ষতিপূরণ ও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করতে চাইবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে চায়। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করতে হবে। যদিও ইরান দাবি করছে, এসব মজুত এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। তবে এখন কিছুটা নমনীয় প্রস্তাব এসেছে বলে জানা গেছে। বিশ্বাসের সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ আলোচনার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এখন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে, আলোচনার কথা চললেও বাস্তবে সংঘাত কমার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও দেখা যাচ্ছে না।
এবি/টিএ
এবি/টিএ