ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল ভারত
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২৯ পিএম | ২৫ মার্চ, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আজ বুধবার ভারতের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে হবে এ বৈঠক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুসারে, বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বেশ কয়েক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিও। তিনি বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন দলের প্রধান এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন।
উল্লেখ্য, উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।
সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।
যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এখন যুদ্ধবিরতি চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং এক্ষেত্রে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধবিরতির জন্য ইসলামাবাদের মাধ্যমে তেহরানে ১৫টি পয়েন্ট বিশিষ্ট একটি প্রস্তাবনাও পাঠিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে, নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতাহি বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে ভারতেকও চায় তেহরান। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ইরানের ঐতিহাসিক মিত্র ভারত এই যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বস্ত, কার্যকর এবং ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করে তেহরান।
সূত্র : ফার্স্টপোস্ট
এসএস/এসএন