© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারে স্পষ্ট রোডম্যাপ চায় আইএমএফ

শেয়ার করুন:
দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারে স্পষ্ট রোডম্যাপ চায় আইএমএফ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:২৫ পিএম | ২৫ মার্চ, ২০২৬
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সংস্কারকে আরও শক্তিশালী করতে একটি স্পষ্ট ও সময়সীমা বদ্ধ রোডম্যাপ চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি বাংলাদেশ ব্যাংককে কাছে এসব পরিকল্পনা লিখিত আকারে চেয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সফররত আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় দেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।

বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও, এ প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও সময়সীমা বদ্ধ করার ওপর জোর দেয় আইএমএফ। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাওয়া হয়েছে। সংস্থাটি এ পরিকল্পনাটি লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়।

সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোডম্যাপ প্রস্তুত হলে তা দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে দিকনির্দেশনার কাজ করবে। আইএমএফ আশা করছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

এছাড়া বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ের পর নেওয়া হবে। বৈঠকের পর রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করে সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক শুরু হচ্ছে আগামী মাসে। ওয়াশিংটনে আগামী ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি দলের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখেরও অংশ নেওয়ার কথা আছে।

আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের জুনে ৮০ কোটি ডলার বেড়ে ঋণ কর্মসূচির আকার ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। আইএমএফ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা। বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইএমএফের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই সফরকে একদিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ, অন্যদিকে কারিগরি আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, আইএমএফের ইতিবাচক মূল্যায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, পরবর্তী কিস্তি পেতে হলে সংস্কারের গতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এসএস/এসএন

মন্তব্য করুন