© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মহান স্বাধীনতা দিবস / রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান

শেয়ার করুন:
রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৪১ এএম | ২৬ মার্চ, ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধ একটি জাতির অস্তিত্বের লড়াই। আর স্বাধীনতার ঘোষণা সেই লড়াইয়ের প্রথম শপথ। ১৯৭১ সালের সেই উত্তাল সময়ে যখন বাঙালি জাতি শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে নিজের অধিকার আদায়ের শপথ নেয় তখনই বস্তুত জন্ম নেয় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। ২৫ মার্চের কালরাতে সশস্ত্র পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতার পর স্বাধীনতার ঘোষণা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা ছিল না, বরং তা হয়ে ওঠে একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধের ডাক, একটি জাতির জাগরণের সূচনা।

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই স্বাধীনতার ঘোষণাই একটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। ২৫ মার্চ দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার সেই ঘোষণার মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশের জন্মের সূচনা। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষণা ইতিহাস, চেতনা ও আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আজ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এই উপলক্ষে গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বাণীতে বলেন, ‘মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে।’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাকে একটি ‘সর্বজনীন’ রূপ দিতে কাজ করছে বিএনপি সরকার। নানা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নসহ স্বাধীনতার ঘোষণার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়ে বর্তমানে সরকার কাজ করছে। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই জাতির সামনে তা তুলে ধরা হবে। স্বাধীনতার ঘোষণা কেন্দ্র থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়ে বর্তমানে সরকার পর্যায়ে কাজ চলছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আগামীতে এসংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা সারা জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য বড় একটা প্রভাব ফেলেছিল।’

আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে ঘোষণা দিয়েছিলেন সেটা যেমন ২৬ মার্চ, ২৭ মার্চ, ২৮ মার্চ পেরিয়েও পুরো ৯ মাস স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বা চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রায় শোনা যেত। আমাদের একটি ছোট্ট রেডিও ছিল। ওই রেডিও আমরা নিয়মিত শুনতাম। সেখানে আমরা জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাও শুনতাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘তখনকার সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যেই সেই ঘোষণা একটি নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল। স্বাধীনতার সেই অমোঘ বার্তাটি প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের মনে এই বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল, এবার বুক চিতিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মোকাবেলা করার সময় এসেছে।’

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সরকার চাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বজনীন হিসেবে দেখাতে। এটি একটি জনযুদ্ধ ছিল, ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো দলের ছিল না। সুতরাং যার যে অংশগ্রহণ তা তুলে ধরা হবে। কাউকে খাটো করে নয়।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই স্থানের একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। ওই স্থানসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণের পরিকল্পনা আমাদের সরকারের আছে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ থেকে অন্য কোনো ইভেন্টকে বড় বা কোনো গণ-অভ্যুত্থানকে আরো বেশি বড় করে দেখানো যায় সেকেন্ড রিপাবলিকের নামে, যাতে অতীতের সবকিছু ধ্বংস করে ফেলা যায়। এটা কারা করতে চায়? যাদের গায়ে একাত্তরের কালিমা সারা জীবন লেপন রয়েছে, তারাই চায়। চব্বিশ না একাত্তর—এই ইস্যুটা ছাত্রদের ভঙ্গুর একটা অংশ বারবার সামনে এনে কথা বলাচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি এটা নিয়ে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও কোনোভাবে এটা মেনে নেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘একটা অংশ তারা ১৬ ডিসেম্বর মানে না। তাদের বিষয় এটা তরুণদের বিষয় না। আমাদের ১৭ বছরের আন্দোলনের মূল ইনস্পিরেশন ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। একাত্তর আর চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ নেই।’

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন