© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আয়ের রেকর্ড গড়লেও কারিগরি সংকটে ধুঁকছে ঢাকাই সিনেমা : সঞ্জয়

শেয়ার করুন:
আয়ের রেকর্ড গড়লেও কারিগরি সংকটে ধুঁকছে ঢাকাই সিনেমা : সঞ্জয়

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৩৫ পিএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
এবারের ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পেয়েছে বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের সিনেমা। মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে ছবিগুলোর প্রথম দিনের টিকিট বিক্রির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। তবে প্রেক্ষাগৃহে টিকিট বিক্রির এই ঝড়ের বিপরীতে ঢাকাই সিনেমার এক অন্ধকার ও হতাশাজনক দিক তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা সঞ্জয় সমদ্দার। গেল ২২ মার্চ বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দেশের সিনেমার কারিগরি সংকট নিয়ে চরম আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

সঞ্জয় সমদ্দার তার পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে একটি মানসম্মত কালার ল্যাব বা ভিএফএক্স স্টুডিও কেন থাকতে পারে না। তিনি জানান শাকিব খান আফরান নিশো বা সিয়াম আহমেদ সবার সিনেমাই সাধ্যমতো স্কেল বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু একটি বড় আয়োজনের মেইনস্ট্রিম বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণের জন্য যে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন তা আমাদের নেই।

ফাইট ডিরেকশনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন আমাদের রিসোর্সদের কোনো সুযোগ সুবিধা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে না এমনকি ফাইট ডিরেক্টরদের সাধারণ সুগার গ্লাসও দেওয়া হয় না। পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে একটি ফ্যান্টম ক্যামেরাও নেই অথচ এই ঈদে রিলিজ হওয়া পাঁচটি সিনেমার বাজেট অন্তত ৩৫ কোটি টাকা।



বিদেশি টেকনিশিয়ান নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন ভালো কাজের জন্য পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে কারিগরি সুবিধা নেওয়া যেতেই পারে কিন্তু নিতে বাধ্য হওয়া আর নেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নাম পরিবর্তন বা পোশাক পরিবর্তনের মতো খাতে সরকারের টাকা অপচয় হলেও শিল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী এই মাধ্যমটি নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই নির্মাতা।

সিনেমা শিল্পের উন্নয়নে অনুদানের চেয়ে দেশজুড়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে সিনেমা দেখার সুযোগ অর্থাৎ সিনেপ্লেক্স নির্মাণকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সঞ্জয় সমদ্দার। তার মতে একটু সদিচ্ছা থাকলেই প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে সিনেপ্লেক্স হতে পারে। দেশে অন্তত ৬০টি সিনেপ্লেক্স থাকলে সারা বছর সিনেমা আসবে এবং টেকনিশিয়ানরাও নিয়মিত কাজের মধ্যে থাকবেন।

এর ফলে শিক্ষিত ও মেধাবী ছেলেমেয়েরা এই পেশায় আসবে এবং একটি টেকসই ক্যারিয়ার গড়ে উঠবে। এসব কাঠামোগত পরিবর্তন না হলে ঈদের সময়ে এমন ঝকঝকে সিনেমা হয়তো আসবে তবে সামগ্রিকভাবে এই ইন্ডাস্ট্রি একটি নতজানু ও রুগ্ন শিল্প হিসেবেই থেকে যাবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

এসএন 

মন্তব্য করুন