© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিপাকে নেতানিয়াহু: কমছে জনপ্রিয়তা, ৩১ মার্চের মধ্যে বাজেট পাশ না হলে আগাম ভোট

শেয়ার করুন:
বিপাকে নেতানিয়াহু: কমছে জনপ্রিয়তা, ৩১ মার্চের মধ্যে বাজেট পাশ না হলে আগাম ভোট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০০ পিএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
ইরান যুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে আবারও ইসরায়েলের ক্ষমতায় আসার ছক কষেছিলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভেবেছিলেন, দেশটি ইসরায়েলিদের সবচেয়ে বড় শত্রু বিবেচিত হওয়ায় বাড়বে নিজের ও দলের জনপ্রিয়তা। কিন্তু ঘটলো হিতে-বিপরীত।

এই যুদ্ধ নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ফেলেছে ইসরায়েলকে। পাশাপাশি জনপ্রিয়তা কমেছে ক্ষমতাসীনদের। দেশটির আইন অনুযায়ী, পার্লামেন্টে ৩১ মার্চের মধ্যে বাজেট পাস করাতে হবে। নয়তো আগামী তিন মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।

এ অবস্থায় আগাম নির্বাচন এড়াতে দ্রুত রাষ্ট্রীয় বাজেট পাস করাতে মরিয়া প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোট হলে পরাজয়ের শঙ্কা বেড়েছে তার।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুতে হিসাব ছিল ভিন্ন। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর আগাম নির্বাচনের সুযোগ দেখেছিল নেতানিয়াহুর শিবির। মার্চের শুরুতে ক্ষমতাসীন দল লিকুদ পার্টি তাদের জনপ্রিয়তা সর্বোচ্চ হিসেবে দেখিয়েছে। কেননা, জাতীয় নির্বাচন হওয়া কথা চলতি বছরের অক্টোবরে। ইরানে হামলার বাহবা আর কথিত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আগাম নির্বাচন ও বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন নেতানিয়াহু। সেজন্য কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিল তার দল। 

কিন্তু চার সপ্তাহ পার হলেও যুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি এখনো। তাই আগাম নির্বাচন ঠেকাতে উঠে পড়ে লেগেছে ইসরায়েল সরকার। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে মিত্রদের জন্য বাড়তি তহবিল বরাদ্দ এবং দ্রুত বাজেট পাসের উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

গাজা ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইরান প্রসঙ্গে জনসমর্থন কিছুটা পেলেও ভোটের অঙ্ক বদলায়নি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকেই নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি পড়েছে প্রশ্নের মুখে। বিশ্লেষকরা বলছে, ক্রমেই জনসমর্থন হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু।

টাইমস অব ইসরায়েল কর্তৃক প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ১২০টি আসনের মধ্যে ২৮টি আসন জিতবে। তার জোটের মোট আসন দাঁড়াবে ৫১-তে, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়।

এদিকে, দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে দেশটির অর্থনীতিতে। প্রতি সপ্তাহে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ১৬ লাখ ডলার। প্রতিরক্ষা ব্যয়ও বেড়েছে। মিত্রদের সমর্থন ধরে রাখতে অতি রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ দিতে হচ্ছে সরকারকে। সব মিলিয়ে সময় বাড়িয়ে সরকার টিকিয়ে রাখাই এখন নেতানিয়াহুর মূল কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন