© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যুর খবর

শেয়ার করুন:
ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যুর খবর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০৪ এএম | ২৯ মার্চ, ২০২৬
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১০ জন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেনি। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণেই মূলত তাঁরা প্রাণ হারান।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও পানির সংকটে যাত্রীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে অনেকেই মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৪ জন, দোয়ারাবাজারের ১ জন ও জগন্নাথপুরের ৫ জন রয়েছেন বলে বিভিন্ন বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে। নিহতরা হলেন- দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮) ও ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫), রনারচর গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮); দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম; জগন্নাথপুরের চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান, টিয়ারগাঁওয়ের শায়েখ আহমেদ, চিলাউড়া কবিরপুরের মো. নাঈম, পাইলগাঁওয়ের আমিনুর রহমান এবং ইছগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী। তাঁদের এই পরিচয় স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া গেছে।

দিরাইয়ের স্থানীয় সাংবাদিক উমেদ আলী জানান, তাঁর ভাগনে নুরুজ্জামান সরদার ময়না এই ঘটনায় মারা গেছেন। গ্রিস পৌঁছে একই গ্রামের রোহান আহমেদ তাঁদের জানিয়েছেন, তিনিও একই বোটে ছিলেন। তাঁর চোখের সামনেই এই চারজনসহ অন্যদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

জগন্নাথপুরের চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল তাঁর এলাকার দুজনের মৃত্যুর সংবাদ স্থানীয় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। একই উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সদস্য নুরুল ইসলাম তাঁর ওয়ার্ডের দুজনের মৃত্যুর তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পাইলগাঁওয়ের মিজানুর রহমান তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

দোয়ারাবাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন তাঁর ভাগনের মৃত্যুর খবর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার বলেন, নিহতদের পরিবারের কেউ যোগাযোগ করেনি, এজন্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকসহ এলাকার কেউ কেউ এমন সংবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, নিহত চারজন কুলঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা।'

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, 'ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া যে কয়জন বাংলাদেশি রয়েছেন, এর মধ্যে দিরাইয়েরও চারজন আছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।' তবে জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজারে মৃত্যুর বিষয়ে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন