মার্চ মাসে ঢাকার এক হাসপাতালেই হামে ১৯ শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
০২:১৬ এএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
সারা দেশেই হঠাৎ বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। চলতি মার্চ মাসে শুধু রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেই ১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো টিকা না নেওয়া, টিকার সংকট ও সরকারি বুস্টার ডোজ সময়মতো না আসায় হামের প্রকোপ বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হামের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
পটুয়াখালী থেকে বরিশাল, এরপর ঢাকা- ১০ মাসের শিশু ইনারাকে নিয়ে হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে ছুটে বেড়াচ্ছেন মা উম্মে কুলসুম। তাঁর মতো আরও অনেক অভিভাবক হামে আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। প্রতি মুহূর্তে তাঁদের তাড়া করছে সন্তান হারানোর ভয়। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকেরা।
উম্মে কুলসুম বলেন, ‘এখানে আসার পর ওষুধ দিয়েছে, ইনজেকশন দিয়েছে। ডাক্তার বলেছেন সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এখানেই ভর্তি থাকতে হবে।’
চিকিৎসকেরা বলছেন, সচেতনতার অভাব ও টিকাদানে অনিয়মিত হওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ১২০ জনের বেশি হাম রোগী ভর্তি হয়েছে। সেখানে শুধু মার্চ মাসেই ১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক কনসালট্যান্ট ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অনেক মা-বাবা টিকা দিতে চান না। প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকার ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের একটি বুস্টার ডোজ দেয়, যা এবার দেওয়া হয়নি। এটি সর্বশেষ দেওয়া হয়েছিল ২০২০ সালে।’
তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলছেন, হাম মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। নতুন করে টিকা কিনতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হামের সংক্রমণ রোধে আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালের সবগুলো ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউর সুবিধাও রাখা হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও একই ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’
হামের লক্ষণ দেখা মাত্রই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসএস/টিএ