© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হাম কীভাবে ছড়ায় এবং এর লক্ষণ কী কী?

শেয়ার করুন:
হাম কীভাবে ছড়ায় এবং এর লক্ষণ কী কী?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৫ এএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
দেশজুড়ে হঠাৎ করে হাম আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই নতুন করে হাম রোগী ভর্তি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি জেলায় এই রোগের বিস্তার দেখা গেছে এবং মার্চ মাসে প্রায় ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা বলছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকা না দেয়া, মায়ের বুকের দুধ যথেষ্ট না খাওয়ানো, কৃমিনাশক ওষুধ না খাওয়া এবং অপুষ্টির কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

হাম কীভাবে ছড়ায়?

হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত একটি রোগ। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির নাক ও গলার ভেতরে অবস্থান করে এবং কাশি, হাঁচি কিংবা কাছাকাছি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অন্যদের শরীরে প্রবেশ করে।

ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। এছাড়া কোনো দূষিত বস্তু স্পর্শ করে পরে চোখ, নাক বা মুখে হাত দিলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

সংক্রমণের প্রধান উপায়গুলো হলো:

১। আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে আসা।

২। কাশি বা হাঁচির ফোঁটার মাধ্যমে বাতাসে ছড়ানো জীবাণু গ্রহণ করা।

৩। দূষিত জিনিসপত্র স্পর্শ করে পরে মুখে হাত দেয়া। ইত্যাদি

লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। সাধারণত ফুসকুড়ি ওঠার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পর পর্যন্ত রোগটি বেশি সংক্রামক থাকে।

শরীরে প্রবেশ করার পর ভাইরাসটি প্রথমে গলা, ফুসফুস ও লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংক্রমণের ৯ থেকে ১১ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়।

যদি একই বাড়িতে টিকা না নেয়া কেউ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকে, তাহলে তার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। তাই কম টিকাকরণের এলাকায় এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

হামের লক্ষণ

হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যার প্রধান লক্ষণগুলো হলো উচ্চ জ্বর (প্রায় ১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত), সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি ওঠা। সাধারণত সংক্রমণের ১০-১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়।

প্রাথমিক লক্ষণ (প্রথম ৩-৪ দিন)

১। শুকনো কাশি
২। সর্দি
৩। গলা ব্যথা বা স্বর ভেঙে যাওয়া
৪। চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া
৫। আলোতে অস্বস্তি
৬। শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি
৭। মুখের ভেতরে সাদা দাগ (কোপলিক স্পট), যা হামের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ

ফুসকুড়ির ধাপ

প্রাথমিক লক্ষণের কয়েকদিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। সাধারণত-

১। প্রথমে কানের পেছনে শুরু হয়
২। পরে মুখ, ঘাড় ও শরীরের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়ে
৩। ধীরে ধীরে হাত-পা ও পুরো শরীরে ছড়িয়ে যায়
৪। ছোট দাগ থেকে বড় আকার ধারণ করতে পারে

এই ফুসকুড়ি সাধারণত ৫-৭ দিন স্থায়ী হয়। এ সময় জ্বর কিছুটা কমলেও আবার বাড়তে পারে।

সতর্কতা

হাম খুব দ্রুত ছড়ায় এবং অবহেলা করলে নিউমোনিয়া, কানের সংক্রমণ বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া এবং টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এসকে/এসএন

মন্তব্য করুন