‘ধুরন্ধর টু’-এর আবহে ফের আলোচনায় ‘রাজি’ বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত
০১:১৬ পিএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
‘ধুরন্ধর টু’-এর সাফল্যের আবহে আবারও সামনে এল বহু পুরোনো এক বিতর্ক। গুপ্তচর কাহিনিভিত্তিক বই ‘কলিং সেহমত’-এর লেখক হরিন্দর এস সিক্কা এবার সরাসরি আঙুল তুললেন পরিচালক মেঘনা গুলজারের দিকে। তাঁর দাবি, বই থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় মূল কাহিনির আত্মা বদলে দেওয়া হয়েছিল, আর সেই আক্ষেপ এখনও তাঁকে তাড়া করে ফেরে।

সামাজিক মাধ্যমে একাধিক বাস্তব গুপ্তচর কাহিনিনির্ভর বইয়ের তালিকা প্রকাশ করেন হরিন্দর। সেখানে নিজের লেখা ‘কলিং সেহমত’-এর উল্লেখ করে তিনি জানান, এত বছর পরও বইটি পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে সেই পোস্টেই তিনি মেঘনা গুলজারকে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর ভাষ্যে, চলচ্চিত্র নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়াই ছিল তাঁর বড় ভুল সিদ্ধান্ত।
হরিন্দরের অভিযোগ, ছবির রূপান্তরে এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করেছে, যা মূল চরিত্রের প্রকৃত শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। তাঁর মতে, বাস্তব ঘটনার যে তীব্রতা বইয়ে ছিল, তা পর্দায় পুরোপুরি ধরা পড়েনি। এমনকি তিনি দাবি করেন, বহু মানুষ আগেই তাঁকে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তখন তিনি সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেননি।
লেখকের বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে, পাকিস্তানকে ঘিরে সীমান্তের বাস্তবতা, অভ্যন্তরীণ নানা চাপ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জটিল দিক বইটিতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু চলচ্চিত্রে সেই উপস্থাপনা নরম হয়ে যায় বলে তাঁর অভিযোগ।

একজন পাঠকের মন্তব্যের জবাবে হরিন্দর লেখেন, এখন বুঝতে পারছেন কেন অনেকেই তাঁকে আগে সাবধান করেছিলেন। তাঁর মতে, বিশ্বাস করার আগে যাচাই করা উচিত ছিল।
শুধু ‘রাজি’ নয়, মেঘনা গুলজারের আরেকটি চলচ্চিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, সামরিক ইতিহাসভিত্তিক আরেক কাজেও বাস্তবের বহু গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে গেছে।
এটি প্রথমবার নয়। কয়েক বছর আগেও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন হরিন্দর। তখনও তিনি বলেছিলেন, বইয়ের কাহিনি বদলে দেওয়া হয়েছে, এমনকি নিজের অবদানও আড়ালে রাখা হয়েছে।
যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি মেঘনা গুলজার। তবে ‘ধুরন্ধর টু’-এর সাফল্যের সময়ে গুপ্তচর কাহিনি ঘিরে নতুন আগ্রহ তৈরি হওয়ায় পুরোনো এই বিতর্ক আবার আলোচনায় উঠে এসেছে।
পিআর/এসএন