নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত
ছবি: সংগৃহীত
০১:২৫ পিএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
খেলাধুলার যেকোনো আয়োজনই আমার মতো ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের মনে এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাস জাগিয়ে তোলে। আমাদের শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে টেলিভিশনের পর্দার সামনে—ঘন্টার পর ঘন্টা ওয়াসিম আকরামের ‘রিভার্স সুইং’ কিংবা শচীন টেন্ডুলকারের ৯৭ থেকে ১০০ রানে পৌঁছানোর সেই শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তগুলোর রোমাঞ্চ সঙ্গী করে।
মনে মনে খেলোয়াড় হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছা থাকলেও জীবনের বাস্তবতায় তা হয়তো পূরণ হয়নি। তবে এখন মনে হচ্ছে, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের পক্ষেই খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়া সম্ভব হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
এই উদ্যোগের আওতায় আগামী মাস থেকেই দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাতটি জনপ্রিয় খেলাকে পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আনন্দের বিষয় হলো, আজ থেকেই দেশের ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালু হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে গড়ে তোলা হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘স্পোর্টস ভিলেজ’।
আমাদের ছেলেমেয়েরা যদি এখন মাঠের সবুজ ঘাসে বেশি সময় কাটায়, তবে তারা স্মার্টফোনের ভার্চুয়ালিটি আর ‘রিলস’-এর আসক্তি থেকে মুক্তি পাবে।
বেশ কিছুদিন ধরে আমি আন্তর্জাতিক একটি প্ল্যাটফর্মে স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের ওপর কোর্স করছিলাম। ব্যস্ততা বা আলসেমির কারণে তা শেষ করতে না পারলেও একটি বিষয় আমার কাছে খুব স্পষ্ট হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের নীতিনির্ধারকরা খেলাধুলাকে কেন এতটা গুরুত্ব দেন? এর কারণ হলো—খেলাধুলায় আপনি অধিকাংশ সময়ই হারবেন।
আর এই ‘হার’ আপনাকে পরের দিন জয়ের জন্য আরও বেশি মরিয়া করে তুলবে। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এই হার না মানা মনোভাব এবং লড়াই করার মানসিকতাই একজন মানুষকে সাহসী ও দৃঢ়চেতা করে গড়ে তোলে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আমাদের সন্তানদের কেবল শারীরিক সামর্থ্যই বাড়াবে না, বরং জীবনযুদ্ধের জন্য এক একজন অপরাজেয় সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলবে—এটাই আমার বিশ্বাস।
তারিক হাসান, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টার একান্ত সচিব ও সদস্য সচিব, টেনিস কমিটি, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা