© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও রিজার্ভ ও আমদানি নিয়ে উদ্বেগ নেই: গভর্নর

শেয়ার করুন:
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও রিজার্ভ ও আমদানি নিয়ে উদ্বেগ নেই: গভর্নর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:২৪ পিএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অভিঘাত, আগামী কয়েক মাস পর্যন্ত সামাল দিতে পারবে বাংলাদেশ। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লেও বাড়তি আমদানি ব্যয় মেটাতে দেশের পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

রোববার (২৯ মার্চ) জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নবনিযুক্ত গভর্নর দেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে মুদ্রানীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে সুদের হার কমানো এ মুহূর্তে ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ হবে এবং স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধির চেয়ে মূল্যের স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। 

গভর্নর আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও দেন, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের অংশ।

সভায় ডেপুটি গভর্নররাও একই ধরনের মতামত তুলে ধরেন। ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট।

তিনি বলেন, এছাড়া জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে, এবং ব্যালান্স অব পেমেন্টে চাপ কমাতে আরও ২ বিলিয়ন ডলারের একটি ক্রেডিট লাইন নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

গভর্নর জানান, সরকার প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সরাসরি অনুদানের মাধ্যমে কম দামে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বিভিন্ন দেশ সফর করছেন।

এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে বলে জানান গভর্নর।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে বেশকিছু ঝুঁকি বা মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ সৃষ্টিরও আশঙ্কা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা। 

ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম যখন ৬২-৬৫ ডলারে ছিল, তখন জ্বালানি আমদানিতে বছরে ব্যয় হতো ১০.৫ বিলিয়ন ডলার। এখন দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, আমদানি ব্যয়ও সে তুলনায় বাড়বে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা পেলে এই বাড়তি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

গভর্নর মোস্তাকুর জানান, দীর্ঘমেয়াদি জিটুজি (সরকারের সঙ্গে সরকারের) চুক্তির আওতায়, বাংলাদেশ যেসব ফুয়েল (জ্বালানি) আমদানি করে, সেগুলো চুক্তিতে থাকা দরেই আমদানি হয়। এসব অপরিহার্য আমদানি যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য সরকারের প্রচেষ্টা চলছে। 


ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন