প্রশ্ন আনিস আলমগীরের / সালাহউদ্দিন আহমদ আইন নিয়ে কথা বলায় বিরোধী দলের আপত্তি কেন?
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩২ পিএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আইন মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বললে বিরোধী দলের আপত্তি কেন? এমন প্রশ্ন তুলেছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদের আইন ও প্রশাসন দুই ক্ষেত্রেই প্রাতিষ্ঠানিক ও বাস্তব জ্ঞান আছে।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আনিস আলমগীর বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আইন মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলায় বিরোধী দলের এত আপত্তি কেন, বিষয়টা সত্যিই বোধগম্য নয়।
সংসদের ভেতরে-বাইরে তারা এটা নিয়ে কথা বলছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সালাউদ্দিন সাহেব শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হিসেবে সনদ পেয়েছেন। একই সঙ্গে সপ্তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
অর্থাৎ আইন ও প্রশাসন দুই ক্ষেত্রেই তার প্রাতিষ্ঠানিক ও বাস্তব জ্ঞান আছে।’
রাজনীতিবীদ সালাহউদ্দিন আহমদ সম্পর্কে আনিস আলমগীর বলেন, “আরেকটি সত্য হচ্ছে তিনি শুধু বিএনপির নেতা নন, বর্তমান সময়ে ‘ছায়া মহাসচিব’ হিসেবেও কাজ করছেন। সবার স্মরণ থাকা উচিত যে বিএনপির মহাসচিবকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নিয়েই ভিডিও বক্তৃতা দিতে গিয়েই তিনি শেখ হাসিনার সরকারের রোষানলে পড়েছিলেন। সরকারের ভেতরের সরকার বা আরো সহজ করে বললে তার আমলা বন্ধুরা তাকে প্রাণে বাঁচানোর জন্য দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।’
ইউনূস আমলে সংবিধান সংস্কার নিয়ে দীর্ঘ আলোচনাপ্রক্রিয়ায় তিনি বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে সফলভাবে কাজ করেছেন, যে চুক্তি বা সিদ্ধান্তে তারা স্বাক্ষর করেছেন, তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও দিয়েছেন। সুতরাং আইনসংক্রান্ত বিষয়ে তার বক্তব্য দেওয়া একেবারেই অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন আনিস আলমগীর।
তিনি বলেন, প্রশ্ন তুলতে হলে যুক্তির জায়গা আছে। তার মন্ত্রণালয় অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কতটা কার্যকরভাবে চলছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে কি না, এসব নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে। বিশেষ করে ইউনূসের বাটপারি শাসনে যে মব কালচার তৈরি হয়েছিল, ভুয়া মামলায় গ্রেপ্তার, চাঁদাবাজি তা কাটিয়ে উঠতে তিনি কতটা সফল—এটাই হওয়া উচিত আলোচনার কেন্দ্র।
কিন্তু একজন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি আইন মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলতেই পারবেন না—এ দাবি আসলে যুক্তির চেয়ে বেশি রাজনৈতিক আবেগের প্রকাশ। এসব স্মরণ করিয়ে দেয়, মবের জনক ইউনূসের কাছে তারা যেসব আবদার করত, তারা এখনো তেমনই এক ধরনের আবদার করছে।
আইকে/টিএ