পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি, আমি সাংবাদিক না : ভাইরাল তাইজুল
ছবি: সংগৃহীত
১০:২১ পিএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
‘আমার বাবা-মা অসুস্থ, তারা শ্রবণপ্রতিবন্ধী। আমি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেল্পার) হিসেবে কাজ করি। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না।
কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম (৩০)। সম্প্রতি জিলাপির দাম নিয়ে তৈরি করা তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তাইজুল স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে জিলাপি বিক্রি নিয়ে সরল ভাষায় কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক এখানে দোকানপাট, অনেক জিলাপি ভাজতেছে।
তার কাছে আমি প্রশ্ন করবো— জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?’
পরে তিনি দোকানিকে প্রশ্ন করেন, ‘জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? যদি জনগণকে বলতেন তাহলে অনেক খুশি হইতাম।’ তার এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ দর্শক তার সরলতা ও উপস্থাপনাকে বিনোদন হিসেবে দেখছেন এবং প্রশংসা করছেন।
অন্যদিকে, কেউ কেউ তাকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্যও করছেন।
তাইজুল ইসলাম তাজু নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তার মায়ের নাম তাহেরা বেগম। ৬ ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। তাইজুল পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেল্পার) হিসেবে ঢাকায় কাজ করেন।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজমিস্ত্রির কাজের ফাঁকে ফাঁকে মজার ছলে ভিডিও করেন তিনি।
তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমাদের এলাকার খবর করে না। এ জন্য আমি ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। আপনারা আমাকে নিয়ে ট্রোল করেন। এতে আমার কষ্ট নেই। আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।’
নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ওই ছেলের বাড়ি আমার পরিষদের সামনে। তবে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আজ শুনলাম সে নাকি ভিডিও করে ভাইরাল হয়েছে।’
এবি/টিএ
এবি/টিএ