আইএলওতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে ৪৭ দেশের সমর্থন
ছবি: সংগৃহীত
০৩:২৪ এএম | ৩১ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশ ইস্যুতে আলোচনায় অংশ নেওয়া ৪৭টি রাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে অভিনন্দন ও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি দেশগুলো তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্যের তথ্য জানানো হয়।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বাংলাদেশের শ্রম খাতের সংস্কার ও বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন পেশ করা হয়। ২০১৯ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইএলও কনভেনশনের কয়েকটি ধারা প্রতিপালনে ব্যর্থতার অভিযোগে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার ধারাবাহিকতায় গত পাঁচ বছরে আটটি অধিবেশনে আলোচনা হলেও এবারের অধিবেশনে বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের অঙ্গীকার বিশ্বজুড়ে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।
৫৬ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির মধ্যে ১৯টি রাষ্ট্র, দুটি আঞ্চলিক গ্রুপভুক্ত আরও ২৮টি দেশ এবং মালিকপক্ষ এই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রশংসা করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে।
অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। উপদেষ্টা মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে আইএলও সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার মানবাধিকার, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের এই অগ্রাধিকারগুলো আইএলও-র ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যাজেন্ডা’র সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টিও তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে আরব গ্রুপ, উপসাগরীয় অঞ্চলের গ্রুপসহ চীন, রাশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের শ্রম খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ২২ সদস্যের আরব গ্রুপ এবং ৬ সদস্যের উপসাগরীয় গ্রুপসহ ১৪টি দেশ ও মালিকপক্ষ মামলাটি দ্রুত তুলে নেওয়ার জোরালো দাবি জানায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা শ্রম আইন সংশোধন ও পরিদর্শক নিয়োগের অগ্রগতির প্রশংসা করে রোডম্যাপের পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে অধিবেশনে উপস্থিত সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে মামলাটির পরবর্তী আলোচনার তারিখ আগামী বছরের মার্চ মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অধিবেশনে জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রমসচিব আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক এই ফোরামে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের এমন গণসমর্থন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি শ্রম খাতের উন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টিজে/টিএ