© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সংবিধান মানতে হলে প্রধানমন্ত্রীর দেশের বাইরে থাকার কথা: শফিকুল ইসলাম মাসুদ

শেয়ার করুন:
সংবিধান মানতে হলে প্রধানমন্ত্রীর দেশের বাইরে থাকার কথা: শফিকুল ইসলাম মাসুদ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:১৩ এএম | ৩১ মার্চ, ২০২৬
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, সংবিধান যদি মানতে হতো তাহলে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে থাকার কথা নয়, দেশের বাইরে থাকার কথা। সংবিধান মানতে হলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এখন দেশের বাইরে থাকার কথা ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা সংবিধান নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে, সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তাহলে সেদিন আমাদের বালুর ট্রাক সরানোর জন্য সংবিধানের পৃষ্ঠা খুঁজতে হতো। সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তাহলে ’৭২–এর সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা না। আমাদের এই সংসদে নয়, জেলখানায় থাকার কথা।’

সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন শফিকুল ইসলাম।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখন আমাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে, কথা বলতে গিয়ে বিগত ১৭ বছরের মতো কোনো একটা বৈষম্যের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি কি না? এই সরকার প্রতিষ্ঠার পর শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারে কতটুকু কার্যকরিতা নিয়ে এসেছে, তা জানতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান মানতে হলে যে বাচ্চাদের আজকে এখানে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে কিংবা তাদেরকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাসদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, সেই বাচ্চাদের নিয়ে এই সরকার দলের লোকদেরকে, সরকার দলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দকে আমরা চোখের পানিও ফেলতে দেখেছি। আবার কাউকে কাউকে এ কথা বলতেও শুনেছি যে এই সমস্ত বাচ্চাদের বা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না।’

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন করে গণভোটের ন্যায্যতা–অন্যায্যতা, সংবিধান শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিবকে কয়েক হাজার পুলিশের বেষ্টনীর মাঝখানে একা একটা মোবাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তখন সংবিধান আমাদের রক্ষা করতে পারেনি।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গণভোট নিয়ে আমাদের মাথাব্যথার মূল কারণ হচ্ছে এখানেই, শেখ হাসিনা আমাদেরকে যথার্থ টার্গেটটা করেছিল। সেই টার্গেটের মূল লক্ষ্য ছিলাম আমরা। আমাদেরকে বলা হয়েছিল, একটা গুলি করলে একটা সরে বাকিগুলো সরে না। সেই সরে না লোকগুলো ছিলাম আমরা। যার কারণে আমাদেরকে তারা ভয় পায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন বর্তমান সময় ভিডিও দেখতে পাই যে শেখ হাসিনা বাইরে থেকে বলেছিল, আমরা এই দলকে ভোট দিতে বললাম আর সেই দল আমাদের সঙ্গে আবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনার পর আমরা কাউকে আজকে এখানে বলতে শুনি নাই, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য সঠিক নয়।’

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মানুষ প্রতারিত হয়েছে, বেইমানি করা হয়েছে। আবার যদি গণভোট, জুলাই সনদ নিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়, তাহলে মূল্য দিতে হবে শুধু নয়, আবার ১৭ বছরের সেই জেল, জুলুম, নিপীড়ন, গুম, খুনের জায়গায় ফিরে যেতে হবে। গণভোটের প্রতি সমর্থন না জানিয়ে জুলাই সনদকে অস্বীকার করা হলে আবার সেই গুম-খুন-আয়নাঘরের দিকে ধাবিত করা হবে।’

সরকারি দলের উদ্দেশে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে, আমরা আয়নাঘর সমর্থন করতে চাই। গণভোটের বিরোধিতা করা মানে হচ্ছে, ৭০ শতাংশ মানুষকে আমরা অন্যায্যভাবে তাদেরকে ধিক্কার জানাতে চাই। আমি এখানে স্পষ্ট বলতে চাই, আপনারা যেমন ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়েছেন, ৭০ শতাংশ প্রায় জনগণ কিন্তু গণভোটের পক্ষে তারা রায় দিয়েছে। আপনাদের চেয়ে সেই ৫১ শতাংশের তুলনায় সেই ৭০ শতাংশ প্রায় গণভোটকে যদি আপনারা অস্বীকার করেন, তাহলে বলব, গোটা বাংলাদেশ আবার জেগে উঠে গণভোট তারা কার্যকর করবে।’

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন