জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের এগিয়ে আসতে হবে : ডা. জাহিদ
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫৭ পিএম | ৩১ মার্চ, ২০২৬
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় ১৮০ মিলিয়ন মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’
সোমবার (৩০ মার্চ, ২০২৬) ঢাকার শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বল রুমে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেইলিউর বিভাগ এবং বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত ‘ব্রিজ দ্য গ্যাপ বিটুইন ড্রাগস, ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্জারি ইন হার্ট ফেইলিউর’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক হার্ট ফেইলিউ কনফারেন্স’২৬ এর সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহবায়ক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শফিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদশে সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য এনআইসিভিডি (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেস) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে এটি হৃদরোগ চিকিৎসায় অন্যতম প্রধান বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, হার্টের রোগের বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে, যা পুষ্টিগত গুণাগুণ কিংবা নারী-পুরুষ-ধনী-দরিদ্র কোনো শ্রেণিভেদে নির্ধারিত হয় না, এই রোগ সবার হয়।
তিনি স্বাস্থ্যসেবায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
হৃদরোগসহ বিভিন্ন নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ এবং কমিউনিকেবল ডিজিজের প্রতিকার বা প্রতিরোধের জন্য সরকারের যে প্রতিষ্ঠিত কাঠামো রয়েছে, সেই কাঠামোকে আরো কার্যকর, সমন্বিত এবং জনমুখী করতে হবে, যাতে করে চিকিৎসাসেবা দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌছে যায়।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা হৃদরোগীর সংখ্যার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম।
তিনি উপস্থিত চিকিৎসকদের কার্ডিওলজির টেকনিক্যাল এক্সপার্ট উল্লেখ করে বলেন, ‘আপনারাই নির্ধারণ করবেন কীভাবে আপনারা হৃদরোগীদের সেবা দিবেন। দেশের নীতি-নির্ধারকদের আপনারাই রাস্তা দেখাবেন, কিভাবে এই সেক্টরে উন্নয়ন হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এবং সরকারকে সমন্বিতভাবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
কনফারেন্সের সমাপনী পর্বের বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো বাংলাদেশ হার্ট ফেইলিউর অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি ঘোষণা করা; যে কমিটিতে সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ডা. আতাহার আলী, সাধারণ সম্পাদক ডা. ডিএমএম ফারুক ওসমানী খোকন এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ডা. এস এম ই বাকের এর নাম ঘোষনা করা হয়।
দুইজন প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. কে এম এইচ এস সিরাজুল হক এবং অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামকে কার্ডিওলজিতে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং ডা. শহিদুল হক কর্তৃক হার্ট ফেইলিউর এর ওপর লিখিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল জুরিখ থেকে আগত প্রফেসর ড. রবার্ট মানকা, যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ হাসপাতালের হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ প্রফেসর থেরেসা এ. ম্যাকডোনাঘ, রয়্যাল প্যাপওর্থ হাসপাতালের অ্যাডভান্সড হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ প্রফেসর স্টিফেন পেটিট, এবং প্রফেসর ফ্র্যাঙ্ক রুশিৎসকাসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিক সেশনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
সম্মেলনের প্রাক-আয়োজনে মেডিক্যাল এআই এবং কার্ডিয়াক এমআরআই বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়া থেকে আগত ডিজিটাল হেলথ বিশেষজ্ঞ ড. সুতান কাভেরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। দেশি-বিদেশি ৮০০ জন কার্ডিওলজিস্ট এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
কেএন/এসএন