নতুন মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয়
ছবি: সংগৃহীত
০২:১৬ পিএম | ৩১ মার্চ, ২০২৬
রাজধানীর গুলশান থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালত শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখান। এরপর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শুনানি চলাকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি অজয় কর সরকার বলেন, ‘২৮ বছর আগে আমি ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ছিলাম।
এরপর আমার আর কোনো রাজনীতি নেই। সাড়ে ১৫ বছর আমি কোন পদ-পদবি নেই। আজজের এমপি শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ অনেকেই আমার বন্ধু। তারা আমার বিরুদ্ধে খারাপ কিছু বলতে পারবে না।
আমি কয়েকবার নোমিনেশন চেয়েছি। আমাকে দেয়নি। আমি সব সময় গণতন্ত্রের পক্ষে। আমি কিশোরগঞ্জের মানুষ।
আমাকে এলাকার কেউ খারাপ বলতে পারবে না। ৫ আগস্টের আগে কিশোরগঞ্জের একটা মানুষকেও অত্যাচার করেছি, এমন কোনো রেকর্ড নেই। আমি সব সময় বলেছি, শতফুল ফুটুক। কোনো বিএনপি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হলে আমি প্রতিবাদ করেছি। আমি ছয় মাস জেলে আছি। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ও আপনার (বিচারক) কাছে আমি ন্যায় বিচার চাই।’
এদিন আসামি অজয় করকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক সিদ্ধার্থ মণ্ডল তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা সুমন বলেন, ‘এই আসামি শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন। এদের মতো এই ছাত্রলীগের ওপর ভর করেই শেখ হাসিনা আবার ফেরার পরিকল্পনা করছে। এই আসামিরা কোনো সাধারণ আসামি না। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শোন এরেস্ট দেখানো প্রয়োজন।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আসামি ছাত্রলীগ করেছে, আওয়ামী লীগ করেছে। কিন্তু তিনি কখনো অন্যায় করেনি। তার বিরুদ্ধে কোথাও কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। জুলাই আন্দোলনেও তিনি শান্তিপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।’
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণার পর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ভাটারা থানাধীন নতুন বাজার রাস্তায় সরকার পতনের একদফা আন্দোলন চলছিল। এতে মুক্তিগামী হাজার হাজার ছাত্র-জনতা অংশ নিয়েছিল। সেই আন্দোলনের ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। ওই দিন বেলা দেড়টার দিকে গুলশান থানাধীন নতুন বাজার এলাকা দিয়ে রাস্তা পার হয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন। এসময় আসামিদের ছোড়া বুলেট ভিকটিম তৌহিদ মিয়ার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাগলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট ভিকটিম তৌহিদ মিয়া বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
কেএন/এসএন