রিমান্ডে নিয়ে ১২০ ঘণ্টার বেশি আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে : মামুন
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৮ পিএম | ৩১ মার্চ, ২০২৬
মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের দ্বিতীয় দফায় আরো ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
শুনানি চলাকালে মামুন খালেদ বলেন, ‘২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর অবসর গ্রহণ করি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ১ বছর ৩ মাস দায়িত্ব পালন করেছি।
আপনি আমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডি করেছেন। আমি কমিউনিকেশন অফিসার। আমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডি করে দেখেন। আমার তিনটা পিএইচডি, পাঁচটি মাস্টার্স রয়েছে।
আমি ২২ বছর একাডেমিক কাজে ছিলাম। ৪০ বছর চাকরি করেছি, এখন সম্মান ধূলিতে মিশিয়ে দিয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে ১২০ ঘণ্টার বেশি আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। আর কী প্রশ্ন থাকতে পারে।
আমি ছাত্রদের পড়ায়, কিভাবে ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে পারি। আমাকে শুধু হয়রানির উদ্দেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
এদিন পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন তার দ্বিতীয় দফায় আরো সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনে বলা হয়, এ আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্ত কাজে সহায়ক হবে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এমতাবস্থায় আসামির দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মামুন খালেদকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
পরে পুলিশ প্রহরায় বেলা ২টার পর তাকে আদালতে তোলা হয়। আদালতে নেওয়ার পথে তাকে দেখে তার মেয়ে বলতে থাকেন, বাবা, বি স্ট্রং। তখন তিনি মেয়েকে দেখে কিছুটা ভেঙে পড়েন। তাকে কাঠগড়ায় নেওয়া হলে তিনি মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এরপর রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কল্যাণে কাজ করেছেন তিনি। যারা ১/১১ তে কাজ করেছেন, শেখ হাসিনা তাদেরকে বিভিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে সুবিধা দিয়েছেন। এজন্য তারা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ কাজ করেছে।
অফিসারদেরকে বঞ্চিত করে ফ্যাসিস্টদের সহযোগীদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিস্টদের সহযোগীদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অনেককে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
এমনকি বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে ৫৪ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেও তিনি তা এড়িয়ে গেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা কি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, যেটা তো প্রকাশ করা যাবে না। পুনরায় তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।’
তবে রিমান্ড বাতিল চেয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহিন বলেন, ২০২০ সালে তিনি অবসরে গেছেন। চাকরি থেকে অবসরের আদেশ, নির্দেশ দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। বাদীকে কিন্তু আসামি করেনি। তাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে তাকে ফের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, তার কাছে থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাহলে আবার কেন তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে? তার রিমান্ড বাতিল প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে আদালত তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
এর আগে ২৫ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন গত ২৬ মার্চ তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানো হয়। আসামিরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২১ জুলাই সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
এসএন