জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে রাজপথে থাকবে ছাত্রশিবির: সভাপতি
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৯ এএম | ০১ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা এবং জনগণের ম্যান্ডেট নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ছাত্রশিবিরের দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ২৫টি রাজনৈতিক দল একমত হয়ে স্বাক্ষর করলেও বর্তমানে তা একটি বিশেষ দলের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজপথের লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে আইনি মারপ্যাঁচে নস্যাৎ করার কোনো চক্রান্ত ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্রশিবির রাজপথে সক্রিয় থাকবে।
শিবির সভাপতি উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৭ অক্টোবর অধিকাংশ দলের সম্মতিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ১৩ নভেম্বরের রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে দেশের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ মানুষ এই সনদের পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া মানেই জনগণের এই সরাসরি রায়কে অগ্রাহ্য করার লাইসেন্স পাওয়া নয়। গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসি মূলত জনগণের ম্যান্ডেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’
সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নূরুল ইসলাম আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন এবং বিচার বিভাগ পৃথক করার মতো ১৫টি মৌলিক সংস্কারের অধ্যাদেশ রহিত বা সংশোধন করার পাঁয়তারা চলছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় দলীয়করণের পুরোনো ছকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছ বাছাই কমিটি ও সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় বাধা দিয়ে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট সদস্যদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে মার্চ মাসের রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং এপ্রিল মাসের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সভায় ক্যাম্পাস পরিস্থিতি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণ করা হয়। বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এমআই/টিএ