আবারও স্বপ্নভঙ্গ, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ইতালি
ছবি: সংগৃহীত
০৪:০৪ এএম | ০১ এপ্রিল, ২০২৬
জেনিৎসার বিলিনো পোলি স্টেডিয়ামে আজ ফুটবল বিধাতা যেন ইতালির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। ১২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফেরার যে স্বপ্ন নিয়ে জেনিৎসায় পা রেখেছিল আজ্জুরিরা, তা শেষ পর্যন্ত ধূলিসাৎ হয়ে গেল পেনাল্টি শ্যুটআউটে। তাতেই টানা তিনবার ফুটবলের মহাযজ্ঞে দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
প্লে-অফের ফাইনালে প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়েই ছিল ইতালি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল হজম করলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয় ১-১ গোল ব্যবধানে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলাতেও আসেনি ফলাফল। ফলে ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষায় প্রথম শটেই গোল আদায় করেন বসনিয়ার বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ। অন্যদিকে ইতালির হয়ে শট নিতে এসে মিস করেন পিও এস্পোসিতো। দ্বিতীয় শটে দুদলই গোল পায়। পরের শটে বসনিয়া গোল পেলেও মিস করেন ইতালির ব্রায়ান ক্রিস্টান্তে। আর চতুর্থ শটে গোল পেয়ে গেলে জয় ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় ইতালি। প্রথমার্ধের ১৫তম মিনিটেই দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে দলকে লিড এনে দেন ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড ময়েস কিন। এই গোলের মাধ্যমে ১২ বছরের বিশ্বকাপ আক্ষেপ মেটানোর পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে যায় আজ্জুরিরা।
কিন্তু এক গোলে এগিয়ে গেলেও অস্বস্তি নিয়েই বিরতিতে যায় ইতালি। ম্যাচের ৪২তম মিনিটে ইতালির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। বসনিয়ার স্ট্রাইকার এডিন জেকো যখন বল নিয়ে ডিবক্সের ঠিক বাইরে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে পড়ছিলেন, তখন তাকে ফাউল করে বসেন তিনি। কোনো সময় ক্ষেপন না করে বাস্তোনিকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
একজন কম নিয়ে খেলায় প্রথমার্ধের শেষদিকে ইতালির রক্ষণভাগে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে বসনিয়া। তবে জিয়ানলুইজি ডোনারুমা দৃঢ় গোলকিপিংয়ে প্রথমার্ধে কোনো গোল হজম করেনি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধে একজন বেশি থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুহুর্মুহু আক্রমণে ইতালিকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে বসনিয়া। যদিও গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছিলেন, কিন্তু ৮২ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। বসনিয়ার এডিন জেকো এবং ডেমিয়রোভিচদের সম্মিলিত একটি আক্রমণ থেকে চমৎকার গোল শোধ করে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি এখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। সেখানে গোল আদায় করতে পারেনি কোনো দলই। ফলে ১-১ গোল ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচটি।
এমআর/টিএ