© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন

শেয়ার করুন:
কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:২৭ এএম | ০১ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই সুখবর দিল সরকার। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বিশেষ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সমর্থনের কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জটিলতা এড়িয়ে এই তেল আমদানির পথ প্রশস্ত হয়েছে।

গত ১১ মার্চ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও জ্বালানি আমদানিতে অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানান। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ‘কেস টু কেস’ ভিত্তিতে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বিধি মেনে কাজাখস্তান থেকে এই তেল কেনা সম্ভব হচ্ছে। এক্সনমোবিল কাজাখস্তান থেকে প্রতি ব্যারেল মাত্র ৭৬ দশমিক ৪১ ডলার দরে এই ডিজেল সরবরাহ করবে, যা বর্তমান বিশ্ববাজারের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী।

জ্বালানি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কাজাখস্তান থেকে তেল কেনার প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এখন ‘কেস টু কেস’ ভিত্তিতে মতামত দিচ্ছে, যার ফলে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে এমন নির্দিষ্ট সরবরাহকারী ও বন্দর থেকেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন না করে বাংলাদেশ তেল আমদানি করতে পারছে।

এক্সনমোবিল কাজাখস্তান কাস্পিয়ান অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও তাদের অনেক প্রকল্পে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা থাকে; তবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত বিধি মেনে চলছে। ওয়াশিংটনের এই সহযোগিতামূলক অবস্থানের কারণে সরকার প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ৪১ ডলারের এই চুক্তি অনুমোদন করতে পেরেছে, যা বাজারের অন্যান্য প্রস্তাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তবে নতুন সরবরাহকারীদের বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, কিছু প্রতিষ্ঠান আরো কম দামে ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি আসায় সেসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি।

বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, আজ (১ এপ্রিল) ‘নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের ১৫ দিনের মধ্যে উচ্চমানের কম সালফারযুক্ত এই ডিজেল দেশে পৌঁছাবে।

এক প্রস্তাবে ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন থেকে জি-টু-জি চুক্তির আওতায় ৬০ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল কেনা হবে, যার প্রতি ব্যারেলের মূল্য (৫ দশমিক ৩৩ ডলার প্রিমিয়ামসহ) ২২১ দশমিক ০৮ ডলার। অন্য প্রস্তাবে মালয়েশিয়াভিত্তিক আবির ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার প্রতি ব্যারেলের মূল্য (১৫ ডলার প্রিমিয়ামসহ) ১৩৭ দশমিক ১৪ ডলার।

এ ছাড়া বিভিন্ন অসংগতির কারণে বৈঠকে আরো তিনটি জ্বালানি আমদানির প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, অনুমোদিত সব চুক্তি বাস্তবায়িত হয় না, কারণ কিছু সরবরাহকারী পারফরম্যান্স গ্যারান্টির মতো শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। সরকার এ ধরনের গ্যারান্টি ছাড়া এলসি না খোলার কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পরও কয়েকটি কম্পানি এখনো জ্বালানি সরবরাহ করেনি।’ সরবরাহ নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করতে বিপিসি নতুন সরবরাহকারী অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রবেশে আগ্রহ দেখিয়েছে।

নতুন সরবরাহকারী তালিকাভুক্ত করতে চলতি সপ্তাহেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে বিপিসি। এর মাধ্যমে জ্বালানি তেলের উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং আরো প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান জানান, অন্তত ২০টি আন্তর্জাতিক কম্পানি বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে সরবরাহকারী তালিকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পরিশোধিত ও অপরিশোধিত উভয় ধরনের তেল সংগ্রহকে আরো সহজ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করবে।

বর্তমানে সৌদি আরবিয়ান অয়েল কম্পানি (সৌদি আরামকো) এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কম্পানি অপরিশোধিত তেলের একমাত্র তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী। পরিশোধিত জ্বালানির জন্য বর্তমানে ৯টি কম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও পবিত্র রমজান ও বর্তমান মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনা করে এপ্রিল মাসে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিবহন খরচ এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জ্বালানি তেলের উৎস আরো বৈচিত্র্যময় করতে চলতি সপ্তাহেই নতুন সরবরাহকারী তালিকাভুক্ত করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে বিপিসি। বর্তমানে অন্তত ২০টি আন্তর্জাতিক কম্পানি বাংলাদেশে তেল সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আরো প্রতিযোগিতামূলক দামে তেল কেনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরআই/এসএন

মন্তব্য করুন