চেক বাউন্স মামলায় রাজপালকে সতর্ক করলেন আদালত
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৮ এএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবের অবস্থান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত ও বিচারব্যবস্থাকে হালকাভাবে না নিতে অভিনেতা ও তার আইনজীবীকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা।
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বলেন, ‘বিচারক আপনার প্রতি সদয় হওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি দুর্বল। আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবেন না।’ শুনানিতে রাজপাল যাদব ও তার আইনজীবীর বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য লক্ষ্য করে আদালত।
একদিকে অভিনেতা বকেয়া ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে তার আইনজীবী দাবি করছেন যে রাজপাল যেহেতু ইতিমধ্যে কারাদণ্ড ভোগ করেছেন, তাই নতুন করে অর্থ পরিশোধের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়। আইনজীবীর এমন যুক্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত জানান, সাজা ভোগ মানেই ঋণের দায়মুক্তি নয়।

রাজপাল যাদব ৬ কোটি টাকা জোগাড়ের জন্য আদালতের কাছে ৩০ দিনের সময় চেয়েছিলেন। তবে বিচারপতি সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়ে বলেন, ‘না মানে না। এই মামলায় আর কোনো অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না।’ আদালত ইতোমধ্যে মামলার রায় সংরক্ষিত রেখেছেন।
২০২৪ সালের মে মাসে একটি সেশন আদালত চেক বাউন্স মামলায় রাজপালকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্ট সাজা স্থগিত করে বিষয়টি মীমাংসার সুযোগ দিলেও অভিনেতা বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণের পর ১.৫ কোটি টাকা জমা দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান তিনি।
অভিনেতার দাবি, তিনি ইতোমধ্যে ১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন এবং দেনা মেটাতে পাঁচটি ফ্ল্যাটও বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তিনি বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে দীর্ঘসূত্রতা ও বক্তব্যের অসংগতির কারণে আদালতের তোপের মুখে পড়লেন এই কমেডিয়ান।
কেএন/এসএন