আগামী রোববার থেকে সারাদেশে দেওয়া হবে হামের টিকা, কারা আগে পাবে?
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৮ পিএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সরকার গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ থেকে ২১.৯ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা ধার হিসেবে গ্রহণ করছে। পরবর্তী সময়ে এই টিকা দিয়ে দেশের শিশুদের টিকাদান করা হবে।
আগে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হতো। তবে আপৎকালীন কর্মসূচির আওতায় এবার ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু-কিশোররা টিকা নিতে পারবে। প্রথমে যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে, সেগুলোতে টিকাদান শুরু হবে।
টিকা ছাড়াও মন্ত্রক সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়ানো ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি দ্রুত সংক্রমিত হয়। ভাইরাসটি বাতাস বা বস্তুর ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে।
হামের প্রাথমিক লক্ষণকে ৩C দিয়ে মনে রাখা যায় কফ, কোরাইজা (সর্দি), কনজাংকটিভাইটিস (চোখ লাল হওয়া)। সঙ্গে আসে তীব্র জ্বর, মুখের ভেতরে কপ্লিক স্পট এবং কয়েকদিনের মধ্যে মুখ থেকে শুরু করে শরীরে ছড়ানো র্যাশ।
বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সি শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা ঝুঁকিতে থাকে। অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক হতে পারে। সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
টিকা গ্রহণ হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সাধারণত এমআর (মিসেলস-রুবেলা) বা এমএমআর (মিসেলস-মাম্পস-রুবেলা) টিকা ৯ মাস ও ১৫ মাসে দুই ডোজে দেওয়া হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, আক্রান্ত শিশুর যত্নে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, একটি সমাজে প্রায় ৯৫% মানুষ টিকা নিলে রোগটির বিস্তার বন্ধ করা সম্ভব। তাই শিশুর পাশাপাশি আশপাশের সব শিশুর টিকাও নিশ্চিত করা জরুরি।
টিজে/টিকে