সাপ্তাহিক পুঁজিবাজারে বড় পতনের মধ্যেই গড় লেনদেন বেড়েছে ২২ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪০ এএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
গত সপ্তাহে (২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল) দেশের পুঁজিবাজারে নিম্নমুখি প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। আলোচিত প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২ শতাংশীয় পয়েন্ট হারিয়েছে। বিশেষ করে বড় কোম্পানির শেয়ারে বেশি দরপতন দেখা গেছে। সূচক কমলেও গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯৬ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৩১৬ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৯ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ২০ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৭৪ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭২টির, কমেছে ২০৬টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ১২টির। আর লেনদেন হয়নি ২২টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক, আল-আরফাহ ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৬৬৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫৪৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ২১ দশমিক ৯০ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নেতিবাচক ছিল, যা বাজারজুড়ে বড় ধরনের শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি করেছে। সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসেই সূচক পয়েন্ট হারায়। মাঝে কিছুটা সস্তায় শেয়ার কেনার জন্য সাময়িক উত্থান হলেও কোনো জোরালো ইতিবাচক প্রভাবকের অভাবে বাজারে ঊর্ধ্বমুখিতা স্থায়ী হয়নি।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষ অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১২ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ব্যাংক খাত ৯ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে পাঁচটি বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বেশি দরপতন দেখা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৩ দশমিক ৬ ও সিমেন্ট খাতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। এছাড়া এ সময়ে ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ, মিউচুয়াল ফান্ড, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং বস্ত্র খাতের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য হারে নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। এছাড়া সাধারণ বীমা খাতে ১ দশমিক ২ এবং সেবা ও আবাসন খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৭০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৯১৫ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৯৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ১০২ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৮৮ কোটি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩৯ কোটি টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৭টির, কমেছে ১৫২টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির বাজারদর।
এসএস/টিএ