© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কারাদণ্ডের ঝুঁকি উপেক্ষা করে ইরানে ফিরলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি

শেয়ার করুন:
কারাদণ্ডের ঝুঁকি উপেক্ষা করে ইরানে ফিরলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:০৩ পিএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক পুরস্কারজয়ী ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি কয়েক মাস দেশের বাইরে থাকার পর গত মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ইরানে ফিরেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইরানি আদালতের দেওয়া এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজ ভূমিতে ফেরার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরাসরি আকাশপথে ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি থাকায় তুরস্ক হয়ে স্থলপথে ইরানে প্রবেশ করেন পানাহি। দেশে ফেরার পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কারণ, গত বছরের ডিসেম্বরে ইরানের আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতে পানাহিকে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। পানাহির বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো।

পানাহি এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, দীর্ঘ সময় দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কবলে ছিলেন। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেন। তাঁর ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ সিনেমাটি কান উৎসবের সেরা পুরস্কার পাম দ্য’র জিতে নেয়। এই সাফল্যের মুকুট মাথায় নিয়ে গত বছরের মে মাসে ইরানে ফিরে যান জাফর পানাহি।

ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট সিনেমাটি ৯৮তম অস্কারে বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম ও বেস্ট অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক মুক্তির প্রচারণার কাজে অংশ নিতে এবং অস্কারে যোগ দিতে গত বছরের শেষ দিক থেকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন জাফর পানাহি। তাঁর অনুপস্থিতিতে গত ডিসেম্বরে পানাহিকে এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন ইরানের বিপ্লবী আদালত।

এ শাস্তি মাথায় নিয়েও দেশে ফেরার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন জাফর পানাহি। গত ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত বার্লিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সিনেমার ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরই আমি ইরানে ফিরে যাব। আমি আমার জনগণের সঙ্গে বিপদের এই মুহূর্তে দেশেই থাকতে চাই। আমি ইরানের নাগরিক। ইরানই আমার কাজ করার একমাত্র জায়গা।’



সরকারের সাজা সত্ত্বেও জাফর পানাহির দেশে ফেরার সিদ্ধান্তকে অনেকে তাঁর শিল্পের প্রতি সততা এবং দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এক চূড়ান্ত নিদর্শন হিসেবে দেখছেন।


পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন