© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চাকরির বয়স বাড়ানোর বিল / স্পিকারের নির্দেশনার পরও কপি না পাওয়ায় হ্যাঁ-না কিছুই জানায়নি বিরোধী দল

শেয়ার করুন:
স্পিকারের নির্দেশনার পরও কপি না পাওয়ায় হ্যাঁ-না কিছুই জানায়নি বিরোধী দল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩১ পিএম | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে বিল পাসের সময় ভোটদানে বিরত ছিল বিরোধী দল। এব্যাপারে চিফ হুইপের অভিযোগের বক্তব্যের সমালোচনা করে পাল্টা সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, যে জিনিস আমরা পাইনি সেটার পক্ষে হ্যাঁ বলবো কীভাবে? না বলবো কীভাবে? এটা কি আমাদের অপরাধ? এটা তো হতে পারে না! ম্যাটেরিয়ালস আমাদের সামনে না। তাহলে আমরা কি দেখে হা বা না বলে দেব!

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একথা বলেন তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যার কারণে আমরা অনেক কথা শুনি নাই। আপনার কথাও শুনি নাই। এর মাঝে সংসদের চিফ হুইপ গ্যালারিকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেছেন। তিনি বিজ্ঞ-প্রাজ্ঞ। কথা হবে আপনার মাধ্যমে, গ্যালারি কখনো অ্যাড্রেস হবে না। তিনি সেটাই করেছেন।

দ্বিতীয়ত, তিনি আমাদের দায়ী করেছেন। বয়স বাড়ানোর প্রস্তাব পাসের সময় আমরা নীরব থাকলাম কেন? এটা তো আমাদের একমত, সমর্থন করা উচিত।

'যখন এই বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা করা হচ্ছিল তখন বলেছিলাম যে আমাদের সামনে যে রিপোর্টটি এসেছে এখানে মূল টেক্সট নাই। আমরা অনুরোধ করেছিলাম মূল টেক্সট থাকবে, সাথে সমাধান বা প্রস্তাবনাও থাকবে। আপনি (স্পিকার) একমত হয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন ১২ লাখ টাকা সেভ করার জন্য তারা এটা করেছিলেন। বলেছিলেন এটা নাকি ওয়েবসাইটে আছে। আমরা বলেছিলাম না, এটা ওয়েবসাইট থেকে নয়, এটা আমরা টেবিলে পেতে চাই। আপনি (স্পিকার) এটা সেভাবেই ডিরেকশন দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সেটা আমরা পাইনি। এখন নামাজ পড়ে এসে আমরা এটা পেয়েছি এজন্য ধন্যবাদ। কিন্তু আমরা তো এটা আগে পাই নাই।'

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, যে জিনিস আমরা পাইনি সেটার পক্ষে হ্যাঁ বলবো কীভাবে? না বলবো কীভাবে? এটা কি আমাদের অপরাধ? এটা তো হতে পারে না! ম্যাটেরিয়ালস আমাদের সামনে না। তাহলে আমরা কি দেখে হা বা না বলে দিব!

দ্বিতীয়ত. কমিটির কাছে এটা প্রস্তাবনা বা দায়িত্ব আকারে গিয়েছে। এটা কি ফাইনাল নাকি? এখানে আমাদের কি কোন কথাবার্তা বলার সুযোগ আছে? সংযোজন বিয়োজন বা পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ আছে? যদি সেটা থাকে তাহলে সেটা তো আমাদের কাছে রিপোর্টটাই আরো আগে পূর্ণাঙ্গ আকারে আসা উচিত ছিল। রিপোর্ট আলোচনা হওয়ার পরে যদি বিল আকারে আসতো তাহলে জটিলতা হতো না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানে ৩২ বছরের ব্যাপার আছে কিন্তু আমার সামনে তো কোনো ব্যাপার নাই। আমি কিসের উপরে হ্যাঁ বলবো? হ্যাঁ বলতে গেলে তো আমার কাছে ডেফিনেট মেটেরিয়াল থাকতে হবে।

এরপর সংসদের চিফ হুইপকে তোপ দাগিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দুজন বয়স্ক বন্ধু একসঙ্গে রিকশায় চড়তেছে। বয়সে যিনি ছোট তিনি বলতেছেন, ভাই আপনি তো বয়সে বড়, কিন্তু আপনার ফিজিক্যাল এবিলিটি, স্টিমা বেশি। সিনিয়র বন্ধু বলছিলেন, কেমনে বুঝলা? তখন বয়সে কম বয়সী বন্ধু বলেন, নিজের উরুতে হাত রেখেছি, ভালো করে চেতনা পাচ্ছি না।

তখন বড় বন্ধু বলেন, হাত তো রেখেছো আমার উরুতে, নিজেরটায় রাখো, তাহলে চেতনা পাবা।

এব্যাপারে চিফ হুইপ বলেন, আমি গ্যালারিকে উদ্দেশ্য করে কথা বলিনি। স্পিকারকে উদ্দেশ্য করেই বলেছি। আর বিল না পাওয়ার কারণে হ্যাঁ বা না কিছু বলতে পারেননি। কিন্তু বিল পাওয়ার পরে কথা হয়েছে। তারা সম্মতি জানিয়েছেন। একমত হয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে বিল পাসের পর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, খুব বিস্ময়ের সঙ্গে এবং হৃদয় দিয়ে অনুভব করলাম, জুলাই যুদ্ধ যাদের হাত ধরে শুরু হয়েছিল এবং যে কারণে শুরু হয়েছিল (বয়স বাড়ানো এবং কোটা সংস্কার), যার ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলো এবং বাংলাদেশে একটি নতুন সূর্য উদিত হলো; যাদের ত্যাগে আমরা আজ নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি, সংসদে দাঁড়িয়ে সেই বিলটি পাসের সময় বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ কেন ‘হ্যাঁ’ বললেন না, তা বুঝতে পারলাম না। তাদের ‘হ্যাঁ’ বলা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি এই বিষয়টি সবার জন্যই স্পর্শকাতর। তারা ‘না’ বলেননি ঠিকই, কিন্তু একটি বিষয় আছে, স্পিকার, আপনার এবং সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি; আজ এই সংসদে জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত আছেন। যাদের কারণে এবং যাদের স্বার্থে আজ এই বিল, সেই আহত ও ত্যাগী যোদ্ধারা আজ আপনার বাম পাশে উপস্থিত আছেন। আমরা সবাই তাদের অভিনন্দন জানাতে চাই।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন