© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মাথায় একই গান ঘুরপাকে বিরক্ত!

শেয়ার করুন:
মাথায় একই গান ঘুরপাকে বিরক্ত!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:১৬ পিএম | ০৬ এপ্রিল, ২০২৬
কখনও কি এমন হয়েছে, একটা গান শুনেছেন, আর সেটিই বারবার মাথায় বাজতে শুরু করেছে? কাজ করছেন, পড়াশোনা করছেন কিংবা ঘুমাতে যাচ্ছেন, তবুও সেই একই সুর যেন মাথার ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেক সময় প্রিয় গান, আবার কখনও এমন গানও মাথায় আটকে যায় যা আমরা একেবারেই পছন্দ করি না।

এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতাকে বলা হয় ইয়ারওয়ার্ম। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি আসলে খুবই সাধারণ একটি মানসিক ঘটনা। গবেষণা বলছে, বেশিরভাগ মানুষই সপ্তাহে অন্তত একবার এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।

ইয়ারওয়ার্ম আসলে কী?

ইয়ারওয়ার্ম বলতে এমন একটি অবস্থা বোঝায়, যখন কোনো গান বা সুর আমাদের মাথায় বারবার বাজতে থাকে। যদিও আমরা বাস্তবে সেই গানটি শুনছি না। বিজ্ঞানীরা একে বলেন ইনভলান্টারি মিউজিক্যাল ইমেজারি। অর্থাৎ আমাদের মস্তিষ্ক নিজে থেকেই গান বাজাতে শুরু করে। এই শব্দটির উৎপত্তি জার্মান শব্দ অয়ারভুর্ম বা ওহ-ভুর্ম থেকে। যার অর্থ কানের পোকা। যেন কোনো গান মাথার ভেতরে ঢুকে বসে আছে এবং বারবার নিজেকে শোনাতে থাকে।

কেন মাথায় গান আটকে যায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ারওয়ার্ম হওয়ার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে।

অসম্পূর্ণ গান শোনা:

কোনো গান মধ্যপথে বন্ধ হয়ে গেলে মস্তিষ্ক সেই গানটি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করে। ফলে গানটি বারবার মাথায় বাজতে থাকে।

সহজ ও আকর্ষণীয় সুর: যে গানগুলোর সুর সহজ, ছন্দ দ্রুত এবং মনে রাখার মতো, সেগুলো মাথায় বেশি আটকে যায়।

গানের হুক অংশ: অনেক গানের একটি বিশেষ অংশ থাকে, যা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। এই অংশটিই সাধারণত বারবার মনে বাজতে থাকে।

মানসিক চাপ বা একঘেয়েমি: যখন মানুষ চাপ, উদ্বেগ বা বিরক্তিতে ভোগে, তখন মস্তিষ্ক পরিচিত কোনো সুর বাজাতে শুরু করতে পারে।


কারা বেশি ভোগেন?

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ইয়ারওয়ার্ম তুলনামূলক বেশি হয়। যেমন;

১.নারীদের মধ্যে এই অভিজ্ঞতা কিছুটা বেশি দেখা যায়

২.যারা নতুন অভিজ্ঞতা বা সৃজনশীল বিষয়ের প্রতি আগ্রহী

৩.যারা মানসিক চাপ বা উদ্বেগে ভোগেন

তবে এটি কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রায় সবাই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এর অভিজ্ঞতা পান।

কোন ধরনের গান বেশি আটকে যায়?

সব গান সমানভাবে মাথায় আটকে থাকে না। সাধারণত যেসব গানে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে, সেগুলো বেশি ইয়ারওয়ার্ম হয়ে যায়। যেমন;

১.দ্রুত লয়ের গান

২.সহজ ও পরিচিত সুর

৩.বারবার শোনা গান

৪.সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গান

বিশেষ করে এখন ছোট ভিডিও প্ল্যাটফর্মে একই গান বারবার শোনার কারণে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে।

ইয়ারওয়ার্ম কি ক্ষতিকর?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইয়ারওয়ার্ম ক্ষতিকর নয়। বরং এর কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে।

কোনো ঘটনা বা স্মৃতির সঙ্গে যদি একটি গান জড়িয়ে থাকে, তাহলে পরে সেই গান শুনলে সেই স্মৃতিও সহজে মনে পড়ে। অর্থাৎ, এটি স্মৃতিশক্তি জাগিয়ে তুলতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে।

কীভাবে মাথা থেকে গান সরাবেন?

মাথায় আটকে থাকা গান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু সহজ কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে।

পুরো গানটি শুনুন:

অনেক সময় গানটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুনলে মস্তিষ্ক একটি সমাপ্তির অনুভূতি পায়। এতে গানটি বারবার বাজা বন্ধ হতে পারে।

অন্য গান শুনুন:

নতুন কোনো গান শুনলে পুরোনো গানটির জায়গা বদলে যেতে পারে।

মনোযোগ অন্যদিকে নিন:

পড়াশোনা, গল্প করা, পাজল সমাধান বা অন্য কাজে মন দিলে ধীরে ধীরে গানটি মাথা থেকে মিলিয়ে যেতে পারে।

চুইংগাম চিবানো:

বেষণায় দেখা গেছে, চুইংগাম চিবালে মস্তিষ্কের শব্দ প্রক্রিয়াজাত করার কাজে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে গানটি কম মনে বাজে।

জোর না করা: অনেক সময় জোর করে গান সরাতে গেলে তা আরও বেশি মনে থাকে। তাই অনেক ক্ষেত্রে এটিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়াই ভালো।

আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়ারওয়ার্ম কোনো রোগ নয়। এটি আমাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক একটি মানসিক প্রতিক্রিয়া। মাথায় গান ঘুরতে থাকা বিরক্তিকর মনে হলেও সাধারণত এটি নিজে থেকেই কিছু সময় পর মিলিয়ে যায়। তাই এমন হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সহজ কিছু কৌশল ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।

মোটকথা, মাথায় গান আটকে যাওয়া আমাদের মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক আচরণ। যা কখনও বিরক্তিকর হলেও একেবারেই অস্বাভাবিক নয়।

এসএ/টিকে

মন্তব্য করুন