বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২১ পিএম | ০৬ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরুর খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে তেলের দাম।
সোমবার (৬ এপ্রিল) লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৪ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে ১০৮.৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.২ শতাংশ বা ১.৩৩ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ১১০.২১ ডলারে নেমেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি কাঠামোগত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এখনও বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ডব্লিউটিআই-এর দাম ১১% এবং ব্রেন্টের দাম ৮% বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ তেলের দাম বৃদ্ধির রেকর্ড। সেই তুলনায় রোববারের এই দরপতন অত্যন্ত সামান্য।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উত্তেজনা অবসানের লক্ষ্যে একটি খসড়া পরিকল্পনা হাতে পেয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে না। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, মঙ্গলবারের মধ্যে তেহরান কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে তাদের ওপর ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ নেমে আসবে। ইরান জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আসা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাবে তারা নিজেদের অবস্থান ও দাবিগুলো চূড়ান্ত করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার কারণে ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত ও আরব আমিরাতের তেল সরবরাহ পথটি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে শিপিং ডেটা অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার থেকে ওমান, ফ্রান্স ও জাপানের মালিকানাধীন কয়েকটি জাহাজ এই প্রণালী পার হতে পেরেছে। ইরান যে দেশগুলোকে বন্ধুভাবাপন্ন মনে করে, কেবল তাদের জাহাজগুলোকেই চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে এই বিঘ্ন ঘটার কারণে তেল শোধনাগারগুলো এখন বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। বিশেষ করে এশীয় ও ইউরোপীয় শোধনাগারগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারতের তেল শোধনাগারগুলোও দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তাদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পিছিয়ে দিয়েছে।
এদিকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস গত রবিবার আগামী মে মাসের জন্য দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জোটের মূল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন বাড়াতে অক্ষম হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে রাশিয়ার তেল রপ্তানি টার্মিনালগুলো ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হওয়ায় দেশটির তেল সরবরাহও সম্প্রতি চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
এসএন