জিমে ভুল পদ্ধতিতে ব্যায়াম, বাড়তে পারে মৃত্যুঝুঁকি
ছবি: সংগৃহীত
০৭:১৭ এএম | ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
সুস্থ থাকতে কিংবা শরীর গঠনের জন্য অনেকেই নিয়মিত জিমে যাচ্ছেন। তবে সঠিক নিয়ম না মেনে ব্যায়াম করলে উপকারের বদলে বড় ধরনের ক্ষতিও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ ভুলের কারণে জিমে হঠাৎ অসুস্থতা, হার্ট অ্যাটাক এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
ওয়ার্ম-আপ না করে সরাসরি ব্যায়াম শুরু করা
অনেকেই সময় বাঁচাতে সরাসরি ভারী ব্যায়াম শুরু করেন। কিন্তু শরীরকে প্রস্তুত না করেই হঠাৎ বেশি চাপ দিলে পেশি টান, লিগামেন্ট ইনজুরি এমনকি হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। তাই অন্তত ১০–১৫ মিনিট হালকা স্ট্রেচিং ও ওয়ার্ম-আপ করা উচিত।
হঠাৎ অতিরিক্ত ভারী ওজন তোলা
নতুনদের মধ্যে একটি সাধারণ ভুল হলো দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় বেশি ওজন তোলা। এতে শরীরের পেশি ও জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কখনও কখনও এটি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত কিংবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ভুল পদ্ধতিতে ব্যায়াম করা
প্রতিটি ব্যায়ামের একটি নির্দিষ্ট কৌশল বা ভঙ্গি রয়েছে। ভুল ভঙ্গিতে ব্যায়াম করলে পেশি ছিঁড়ে যাওয়া, হাঁটু বা পিঠে গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নতুনদের জন্য প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম শেখা সবচেয়ে নিরাপদ।
শরীরের সংকেত উপেক্ষা করা
ব্যায়ামের সময় বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে তা শরীরের সতর্ক সংকেত হতে পারে। অনেকেই এসব লক্ষণ উপেক্ষা করে ব্যায়াম চালিয়ে যান। এতে হার্ট অ্যাটাক বা মারাত্মক শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।
পর্যাপ্ত পানি না পান করা
কঠিন ব্যায়ামের সময় শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়, ফলে পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি তৈরি হয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ডিহাইড্রেশন, মাথা ঘোরা কিংবা হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা কখনও জীবনঘাতীও হতে পারে।
খালি পেটে বা অতিরিক্ত খেয়ে ব্যায়াম করা
একেবারে খালি পেটে জিম করলে শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, আবার ভারী খাবার খেয়েও ব্যায়াম করা ঠিক নয়। এতে রক্তচাপের পরিবর্তন, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অসুস্থ অবস্থায় জিম করা
জ্বর, সর্দি, বুকের ব্যথা কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার সময় অনেকেই জিম চালিয়ে যান। এতে শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং জটিলতা বাড়তে পারে।
স্টেরয়েড বা অনিরাপদ সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার
দ্রুত পেশি বাড়ানোর আশায় কেউ কেউ স্টেরয়েড বা অনিরাপদ সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন। এসব পদার্থ হৃদযন্ত্র, লিভার ও কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবনঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ব্যায়ামের পর কুল-ডাউন না করা
অনেকেই ব্যায়াম শেষ করেই হঠাৎ বসে পড়েন বা জিম ছাড়েন। কিন্তু কুল-ডাউন না করলে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ হঠাৎ পরিবর্তিত হতে পারে, যা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
জিমে ব্যায়াম শরীরের জন্য উপকারী, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ভুল পদ্ধতি, অতিরিক্ত উৎসাহ কিংবা অসচেতনতার কারণে সেই ব্যায়ামই কখনও বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তাই নিজের শারীরিক সক্ষমতা বুঝে, প্রশিক্ষকের পরামর্শ মেনে এবং সঠিক নিয়ম অনুসরণ করেই ব্যায়াম করা সবচেয়ে নিরাপদ।
টিজে/টিকে