আগামী অর্থবছর থেকেই শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩৩ পিএম | ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
আগামী অর্থবছরের শুরু থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও সমন্বয়ের অভাবের কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করা হবে।’
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসন, চিকিৎসক-নার্সসহ সেবাদানকারী এবং ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-এই তিন পক্ষ যদি সৎ মানসিকতা নিয়ে একসঙ্গে কাজ না করে, তাহলে স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিছু কম্পানি নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন করলেও সেগুলো বাজারজাতের অনুমোদন পাচ্ছে। যেখানে ৭০ শতাংশ কার্যকর উপাদান থাকার কথা, সেখানে কম থাকলেও তা অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ভালো মানের ওষুধ উৎপাদনকারী কিছু প্রতিষ্ঠানকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বড় বড় ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি একটি সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় এমনভাবে শর্ত নির্ধারণ করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়। এভাবে আমরা নিজেরাই দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘সারা বিশ্বে হামের টিকার ২০টি ভ্যারিয়েন্ট থাকলেও আমাদের এখানে নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের কথা লিখে দেওয়া হয়, যাতে বিশেষ কেউ লাভবান হয়। এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সঠিক অনুপাতে মশা মারার ওষুধ স্প্রে করা হয় না। অল্প ওষুধে বেশি করে কেরোসিন মেশানো হয়, তাই মশা মরে না।’ সঠিক অনুপাতে ওষুধ দেওয়ার জন্য ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীদের যে খাবার দেওয়া হয়, তার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। খাবারে তেলাপোকা পাওয়া গেলে রোগ নিরাময়ের বদলে মানুষ আরো অসুস্থ হবে। এ ছাড়া হাসপাতালের ভেতরে হকারদের নোংরা খাবার বিক্রি এবং চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়গুলোও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
কেএন/এসএন