© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের হার

শেয়ার করুন:
বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের হার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:২৮ এএম | ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
পরিসংখ্যান আর খাতা-কলমের হিসাব-সবকিছুই ছিল রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে। আর সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামও চিরচেনা, ঠিক যেন হাতের তালুর মতোই। তবুও চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগের সুবিধা করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। সুযোগ মিসের খেসারত দিতে হয়েছে ১৫বারের শিরোপাধারীদের। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে ১৫ এপ্রিল দুই দলের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ। 

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে গোলের লক্ষ্যে ৯ বার শট নিয়ে একটি থেকে গোল আদায় করে রিয়াল। অন্যদিকে গোলমুখে ৮টি শট নিয়ে দুটি থেকে পয়দা লুটেছে বায়ার্ন। ৪৮ শতাংশ বল দখলে ছিল লস ব্লাঙ্কোসদের, ৫২ শতাংশ বায়ার্নের। বায়ার্নের বিপক্ষে সর্বশেষ ৯ ম্যাচে অপরাজিত রিয়াল। আজ সে বৃত্ত ভাঙল বাভারিয়ানরা।



আক্রমন-প্রতিআক্রমণের ম্যাচে বাস্কেটগেইমে পরিণত হয়েছিল ম্যাচ। দুই দলের গোলকিপার যেন গোল সেইভে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন ৯০ মিনিট। আন্দ্রে লুনিনকে ৫টি নিশ্চিত গোল সেইভ করেছেন। তার ক্লিয়ারেন্স সংখ্যা ২৪টি। বিপরীতে নয়্যারের ২০টি। তিনি ৯টি নিশ্চিত গোল সেভ করেছেন। বোঝাই যাচ্ছে, দুই গোলকিপার নৈপুণ্যতা না দেখালে এই ম্যাচে গোলসংখ্যা আরও বাড়তো। 

বার্নাব্যুতে ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে ডি বক্সের কাছে ডিন হুইসেনের ব্লকে মাটিতে পড়ে যান মাইকেল ওলিসে। তবে সেখান থেকে স্পটকিক নিয়ে সুবিধা করতে পারেননি ফরাসি উইঙ্গার। দুই মিনিট পর নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা পায় লিভারপুল। দায়োত উপামেকানোর ডান পায়ের শটের গতি আরেকটু বাড়লেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল অতিথি দলের। 

বায়ার্নের মুর্হুমুহু অ্যাটাকের পর পূর্ণ রিদমে ফিরতে অবশ্য সময় বেশি নেয়নি রিয়াল মাদ্রিদ। ষোড়শ মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভ করে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বক্সে ডুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপে। তার সেই শট রুখে দেন ম্যানুয়েল নয়্যার।

১৭তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় রিয়াল। এ যাত্রাতেও বাভারিয়ানদের ত্রাণকর্তা নয়্যার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়দের ডানপায়ের বুলেট গতির শট বাদিকে ঝাঁপিয়ে বারের বাইরে পাঠিয়ে দেন এই জার্মান গোলকিপার। 

২৫তম মিনিটে ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে নয়্যারকে সামনে পান এমবাপে। তবে মিডফিল্ড থেকে পাঠানো ক্রসের গতি ছিল একটু বেশিই। যে কারণে চেষ্টা বৃথা যায় ফরাসি ফরোয়ার্ডের।

অসাবধানতায় অঘটন ঘটতে পারতো ২৭তম মিনিটে। গ্রানব্রি বড় ধরণের সুযোগ মিস করেছেন এসময়। আন্দ্রে লুনিনকে ব্যাকপাস দিতে চেয়েছিল থিয়াগো। সেটি এতই ধীরগতির ছিল যে গ্রানব্রির নাগালে চলে আসে। তার সে শটে জোর ছিল না। তাতে মেলেনি সাফল্য।

২৮তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ হেলায় নষ্ট করেন কিলিয়ান এমবাপে। দীর্ঘসময় গোলখরায় ভোগা রিয়াল রাইট উইঙ্গার নুয়্যারকে একা পেয়েও লক্ষ্যবেদ করতে পারেননি। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভের পর ডান পাশ দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। বুলেটগতির নিচু শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু লুনিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।

৩২তম মিনিটে কারেরাসের লং রেঞ্জের ক্রসের সূত্র ধরে আক্রমণের পরিকল্পনা সাজায় রিয়াল। বল নিয়ে নিজেদের মধ্যে চালাচালি করেন আর্দা গুলের, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ভালভার্দে। কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি সে পরিকল্পনা। বরং পাল্টা আক্রমণে ওঠে বায়ার্ন। যদিও কেইন আটকা পড়ে রিয়ালের ডিফেন্স লাইনে। 

৩৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন চুয়ামেনি। সেটপিসে আবারও স্পটকিক পায় বায়ার্ন মিউনিখ। তবে কাজে দেয়নি এই অর্জন। 

৪০তম মিনিটে লুইস দিয়াসের গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। গ্রানব্রির ক্রস থেকে ডান পায়ের জাদু দেখান কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার ষষ্ঠ গোল। 

কেইন কিছু জায়গা পেয়ে বল ধরে রাখেন এবং তা গ্রানব্রির কাছে পাঠান। যিনি আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পেছনে স্লাইড করেন। দিয়াস ঠিক সময়ে দৌড়ে এগিয়ে যান এবং চতুরতার সঙ্গে বলটি নিচের ডান কোণে গড়ান। তাতেই ১-০ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিড দ্বিগুণ করে বায়ার্ন। রেফারির বাঁশির মাত্র ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাভারিয়ানরা।  রিয়াল সহজে বল হারালে ওলিসে ডান দিক দিয়ে দৌড়ে ভিতরে ক্রস দেন। সে ক্রস রিসিভ করা মাত্রই নিচু শটে জালে জড়ান কেইন। মৌসুমের ইংলিশ ফরোয়ার্ডের এটি ৪৯তম গোল এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১তম গোল।

৫৬তম মিনিটে নিজের গোল সংখ্যা দ্বিগুণ করার সুযোগ হাতছাড়া করেন কেইন। ভালভার্দের সঙ্গে বল রিকভারিতে ছিলেন কিমিখ। সুযোগ বুঝে ছো মেরে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন কেইন। বল নিয়েই ভোঁ দৌড়। নে শট। বাধায় বিফলে যায় তা।

৬০তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র যে ভুল করলেন, তার প্রায়শ্চিত তিনি কিভাবে করবেন, সটো নিয়েই ভাবতে হবে ব্রাজিল ফরোয়ার্ডকে। নিজেদের অর্ধ থেকে পাঠানো বল রিকভার করতে ব্যর্থ হন জোনাথন তাহ। আর বল নিয়ে ওয়ান এন্ড পজিশনে পৌছেন ভিনি। নয়্যারের সামনে গড়বড় করেন বসেন মুহূর্তে। বলটি বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মানে তিনি।

৬২তম মিনিটে ডিন হুইসেন ও থিয়াগোকে উঠিয়ে এদের মিলিতাও ও জুড বেলিংহামকে মাঠে নামান আরবেলোয়া। তার ঠিক মিনেট তিনেক পরই তৃতীয়বারের মতো সহজ গোল মিস করেন এমবাপে। তাহ ও লাইমারকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান তিনি। তবে শেষটা সুন্দর করতে পারনেনি মোটেও। তবে একটু চতুরতা কিংবা কয়েক গজ ডানে শট নিলেও বায়ার্নের জালে বল জড়ানোর সুযোগ ছিল। 

৬৮তম মিনিটে দুইজনকে বদলি করেন ভিনসেন্ট কোম্পানি। গ্রানব্রি ও লাইমারকে তুলে জামাল মুসিয়ালা ও আলফন্সো ডেভিসকে নামান তিনি। এরপরই তাহয়ের ট্যাকেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এমবাপে। বাধায় পড়ে যেন নিজেকে দারুণভাবে ফিরে পান ফরাসি ফরোয়ার্ড। আদায় করেন গোল। সব লিগ মিলিয়ে ৬ ম্যাচ পর গোলখরা কাটালেন তিনি।

৭৪তম মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড ডান পাশ থেকে সুযোগ খুঁজে বের করেন এবং পেছনের পোস্টের দিকে নিচু ক্রস পাঠান। এমবাপে সেখানে অপেক্ষা করে ছিলেন এবং বাঁ-পায়ের জাদুতে বল জালে জড়িয়ে দেন। যদিও নয়্যার চেষ্টা করেছিলেন।এবার আর বুন্দেসলিগা জায়ান্টদের বাঁচাতে পারেননি তিনি। 

যোগ করা সমেয়র প্রথম মিনিটে কর্নার আদায় করে রিয়াল। দুরুহ কোণ থেকে নেওয়া আলেকজান্ডার আর্নল্ডের হাওয়ায় বাসানো সে শট কোনো কাজে আসেনি। বরং লিড বড় করার সযোগ পেয়ে বসে বায়ার্ন। কাউন্টার অ্যাটাকে যান মুসিয়ালা ও দিয়াস। মুসিয়ালা পা ছোঁয়ালেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে ম্যাচ শেষ করতে পারত ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা। 

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন