ডোন্ট গেট নার্ভাস, আই এম ফিট: সংসদে রুমিন ফারহানাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৫ পিএম | ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয় সংসদে হামের টিকা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা-এর বক্তব্যের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ডোন্ট গেট নার্ভাস, আই এম ফিট”-প্যানিক না ছড়িয়ে তথ্য যাচাই করে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে হামের বিস্তার, টিকার সংকট ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, তিনি সংসদে কোনো আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কথা বলেননি, বরং জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরতেই এ আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমি তো ৩০০ জন সংসদ সদস্যের সামনে কথা বলছি, ৩০০ জন হামের রোগীর সামনে না।” সংসদে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলাও যদি ভয়ের কারণ হয়, তাহলে সংসদ কীভাবে চলবে-এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, “এই মৃত্যুগুলোকে শুধু পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে হবে না। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি শিশুর জীবন, একটি মায়ের কান্না, একটি পরিবারের ধ্বংস।” তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়ার মতো ভার পৃথিবীতে আর কিছু নেই-এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, গত ২০ দিনে ৯৮ জন শিশুর সন্দেহজনকভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত মৃত্যু ১৬ জন। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী গত দুই সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা ৬১ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুধু হাম নয়, দেশে ১০ ধরনের টিকার সংকট দেখা দিয়েছে বলেও জানান এই সংসদ সদস্য। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইপিআই কর্মসূচির কেন্দ্রীয় গুদামে বিসিজি, পেন্টা, ওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি-এই ছয় ধরনের টিকার মজুদ শূন্যে নেমে এসেছে। বর্তমানে আইপিভি ও টিসিভি টিকার মজুদ জুন পর্যন্ত চলতে পারে-এরপর কী হবে, সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তিনি।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি কোনোভাবেই বিষয়টি এড়িয়ে যাননি এবং সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। আমি তার প্রতিটি বক্তব্যের জবাব দিয়েছি, তাকে অসম্মান করার কিছু করিনি। এখানে সেন্সিটিভের কি হলো? উনি যেমন বুঝছেন তেমনি বলছেন আই এম নট সেনসিটিভ। এখানে সেন্সিটিভ হবার কোন জায়গা নেই। এটা অন্য জায়গায়। এটা এখানে না।
তিনি বলেন, “আমি কিন্তু একজন এজেড মানুষ। লুকিং ভেরি ইয়াং, বাট এজেড। ডোন্ড গেট নার্ভাস, আই এম ফিট। আমি নিজেও ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মহাখালী সংক্রামক রোগ হাসপাতালে হামের ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছি এবং একটি শিশুর মৃত্যুর পর কেঁদেছি।
মন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ হিসেবে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে শনাক্ত হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, তিনি বিষয়টি ভালোভাবেই বোঝেন, কারণ তার নিজের সন্তানও একসময় হামে আক্রান্ত হয়েছিল। তাই এ নিয়ে আবেগ বা বাস্তবতা তার অজানা নয়।
একই সঙ্গে তিনি পরিসংখ্যান ব্যবহারে সতর্কতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি পত্রিকার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে না বলে দয়া করে ক্রসচেক করবেন।”
তিনি বলেন, “মানুষকে ভয় দেখানো নয়, সাহস দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।” করোনার সময় যেমন নানা আশঙ্কা ছড়িয়েছিল কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি-তেমনি হামের ক্ষেত্রেও অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
টিকার মজুদ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সরকার শূন্য অবস্থা থেকে সরবরাহ পুনর্গঠন করছে। ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে এবং ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে বিলম্ব ও দুর্নীতি এড়ানো যায়।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বিশ্বব্যাংক সরকারকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে এবং দ্রুত টিকার মজুদ শক্তিশালী করা হবে।
তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, মানুষকে আতঙ্কিত না করে সচেতন করাই সরকারের লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কেএন/এসএন