© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্ববাজারে সোনার দামে ফের বড় লাফ

শেয়ার করুন:
বিশ্ববাজারে সোনার দামে ফের বড় লাফ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪০ পিএম | ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার খবরের পরপরই বিশ্ববাজারে সোনাসহ সব ধরনের মূল্যবান ধাতুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বিগত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির ফলে জ্বালানি নির্ভর মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আপাতত কিছুটা কমেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার চাহিদা ফের বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পট সোনার দাম এক লাফে ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮১২ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের শুরুতে এই বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশেরও বেশি ছিল যা গত ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৮৪১ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

স্বতন্ত্র ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং এই পরিস্থিতিকে ‘তাৎক্ষণিক স্বস্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সোনার দাম এখন ৪হাজার ৯৩০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে ৫,০০০ ডলারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু সোনা নয় রূপার দামও ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ৩ দশমিক ২ শতাংশ ও ৪ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, বুধবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ওয়াশিংটন আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে আসা ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার একটি ‘কার্যকর ভিত্তি’ হিসেবে গ্রহণ করেছে হোয়াইট হাউস।

এর আগে ট্রাম্প চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরান যদি অতিদ্রুত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেয় তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে পাথর যুগে পাঠিয়ে দেবে। তবে পাকিস্তানের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় আপাতত রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মেঘ কিছুটা সরেছে। ইরানও জানিয়েছে তারা আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসবে। যদিও তেহরান স্পষ্ট করেছে যে এই আলোচনা মানেই চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি নয়।

বিশ্লেষকদের মতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সোনার দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান ভূ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের পুনরায় নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা বাড়ে। এমন অনিশ্চিত সময়ে সোনাকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন বড় বড় বিনিয়োগকারীরা।

পিআর/এসএন

মন্তব্য করুন