জরিমানা ছাড়াই বিদেশে নিয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনা যাবে: এনবিআর চেয়ারম্যান
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৮ পিএম | ০৮ এপ্রিল, ২০২৬
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেছেন, যারা ভুলে হোক বা যে কোনো কারণে হোক দেশের টাকা বাইরে নিয়ে গেছেন তারা চাইলে জরিমানা ছাড়াই নিয়মিত কর দিয়ে সে টাকা দেশে ফেরত আনতে পারবেন।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত রাজস্ব ভবনে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) পক্ষ থেকে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা চাওয়া হয়। এ জন্য তারা আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ১৯ বিধিধারার পুনঃপ্রবর্তনের দাবি জানান।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, অনেকে বলছেন আমরা দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে গেছি এ টাকাটা কীভাবে আনবো? আমরা বলেছি আমাদের রাস্তা খুবই ওপেন, একেবারে ওপেন। যে কেউ চাইলে আমাদের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তিনি সে টাকা নিয়ে আসতে পারেন। ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে যে ঘটনাটা ঘটে, তিনি রিটার্ন সাবমিট করেছেন কিন্তু বিদেশে নিয়ে যাওয়া অর্থ রিটার্নে দেখাননি। তিনি আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে রিভাইজড রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। ওনি রিভাইজড রিটার্ন জমা দিয়ে কর দিয়ে দিক। ওনাকে মোস্ট ওয়েলকাম ওনি বাংলাদেশের টাকা বাংলাদেশে নিয়ে আসুক। ওনাকে কোনো জরিমানা করা হবে না।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে যারা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছে তাদেরকে উৎসাহিত করে অ্যামনেস্টি (সাধারণ ক্ষমা) দিয়ে এসেছি। আমরা সে সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে চাই। এখন অন্ততপক্ষে নিয়মিত হারে কর দিতে হবে। সারাজীবন ফাঁকি দিয়েছেন আবার ট্যাক্স সিস্টেমকে ডিসটরশন (বিকৃতি) করেছেন এখন আবার কম ট্যাক্স দিবেন, এ কালচারটা আমরা চিরতরে বন্ধ করতে চাই। আমরা ৫৫ বছর ধরে এ কালচারে ছিলাম, এখন আর থাকবো না। গতবছর কালোটাকা সাদা করার যতগুলো উপায় ছিল আমরা বন্ধ করে দিয়েছি, বিশেষ করে কম ট্যাক্স দিয়ে যে সুবিধাগুলো ছিল।
আব্দুর রহমান আরও বলেন, এখন বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো খুবই সহজ। ব্যাংকের মাধ্যমে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম, পেপলসহ আরও কিছু সিস্টেমেও টাকা পাঠানো যায়। শুধু তাই নয়, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানো হলে সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে। ফ্ল্যাটের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আয়কর ও ভ্যাট মিলিয়ে পাঁচ খাত থেকে রাজস্ব আদায় করা হয়। এসব খাতে বিদ্যমান কর-কাঠামো কমিয়ে আনার প্রস্তাব করে রিহ্যাব।
এসএস/টিএ