© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় খাদ্য সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে : বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় খাদ্য সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে : বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৫৯ এএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক ভারসাম্য ও অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশিত অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়কালের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরে। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ফেব্রুয়ারির শেষে দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকার বৈদেশিক খাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

এর মধ্যে অপরিশোধিত তেল আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মূলত প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের বৈদেশিক খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আগের প্রান্তিকে ৮১৮ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি থাকলেও চলতি হিসাবে ৪৭৬ মিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়েছে।

তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা ও প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি খাতে দুর্বলতা দেখা গেছে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম মাঝারি পর্যায়ে থাকায় আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত ছিল, ফলে বাণিজ্য ঘাটতি সামান্য বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চতর প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের বৃদ্ধির কারণে আর্থিক হিসাবে ৩২৯ মিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে লেনদেনের সামগ্রিক ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) ১.০৯ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়েছে, যা ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়ে ৩৩.১৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সহায়তা করেছে (বিপিএম৬ অনুযায়ী ২৮.৫৮ বিলিয়ন ডলার)। বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার অধীনে এ সময় বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।

তবে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জ্বালানির নিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মুদ্রাস্ফীতি সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর ৮.৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ডিসেম্বর ২০২৫-এ ৮.৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।


খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি সামান্য বেড়ে ৭.৭১ শতাংশ হয়েছে, যার পেছনে মাছ, শুঁটকি ও ফলের দাম বৃদ্ধি ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে জ্বালানি-সম্পর্কিত ব্যয় বাড়ায় খাদ্যবহির্ভূত মুদ্রাস্ফীতিও বেড়ে ৯.১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত মজুরি ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে, ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাস্তব খাতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ছিল মিশ্রধর্মী। অনুকূল আবহাওয়া ও নীতিগত সহায়তায় কৃষি খাত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১.২৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৬.৮২ শতাংশ।

অন্যদিকে সেবা খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন