গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি, ন্যাটোভুক্ত কিছু দেশকে ‘শাস্তি’ দেয়ার চিন্তায় ট্রাম্প!
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৩৫ পিএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা না দেয়ার অভিযোগে ন্যাটোর ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি নতুন করে গ্রিনল্যান্ড দখলেরও হুমকি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, ন্যাটোভুক্ত কিছু দেশকে‘ শাস্তি’ দেয়ার কথাও ভাবছেন ট্রাম্প।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে ন্যাটোর ৭৭ বছরের ট্রান্সআটলান্টিক জোটে দেখা দিচ্ছে গভীর অনিশ্চয়তা। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে মিত্র দেশগুলোর সামরিক সহায়তা না পাওয়ায় বেজায় চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতির মাঝেই তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি।
ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রয়োজনের সময় ন্যাটো তার পাশে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। এমনকি সদস্য দেশ ডেনমার্কের অধীনে থাকা গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্যেও সেই অসন্তোষের প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ‘ইরান যুদ্ধের সময় ন্যাটোকে পরীক্ষা করা হয়েছিল, যেখানে তারা ব্যর্থ হয়েছে।’
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অনেক মিত্র দেশ মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি, এমনকি সামরিক সহায়তাতেও অনীহা দেখিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
লেভিট বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে ন্যাটো গত ছয় সপ্তাহ ধরে মার্কিন জনগণের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, যখন মার্কিনরাই তাদের প্রতিরক্ষায় অর্থায়ন করছে।
তবে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলছেন ভিন্ন কথা। স্থানীয় সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে এসে তিনি জানান, সব দেশ সমানভাবে ভূমিকা না রাখলেও অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ লজিস্টিক, ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ এবং অন্যান্য সহায়তা দিয়েছে।
রুটে আরও জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা ছিল ‘খোলামেলা ও স্পষ্ট’, যেখানে ট্রাম্পের হতাশার বিষয়টি সরাসরি উঠে এসেছে।
এদিকে, ন্যাটোর কিছু সদস্য দেশকে ‘শাস্তি’ দেয়ার কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না করা দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে অন্য দেশে মোতায়েনের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। স্পেন ও জার্মানির মতো দেশগুলো নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও লিথুয়ানিয়ার মতো দেশকে বেশি সহযোগিতাপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এমআর/টিকে