© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি, ৫ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

শেয়ার করুন:
শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি, ৫ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:১২ এএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
রাজধানীর কামরাঙ্গী চর এলাকায় ১৬ বছর আগে সাত বছরের এক শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার মামলায় পাঁচজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় দুই শিশুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-সালাহউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া, খন্দকার ওমর ফারুক, মো. রমজান ও সাদ্দাম।

দুই শিশুকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ড। শিশু হওয়ায় তাদের বিচার শিশু আদালতে অনুষ্ঠিত হয়। আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে, অনাদায়ে তাদের এক বছর করে বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে। অপরদিকে দুই শিশুকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে তাদের এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউসার ও নাজমা আক্তার নামের দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে কোরবান, কাউসার ও নাজমা আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে কোরবানকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়ির বাইরে খেলতে যায় শিশুটি।

ইমরান ও রাসেল অন্য আসামিদের নির্দেশে তাকে কামরাঙ্গীচরের পাকাপুল সড়কের বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে তারা শিশুটির পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। এ ছাড়া তার গলা, বুক ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং ইট দিয়ে মাথার এক পাশ থেঁতলে দেয়। রাত ১০টায়ও বাড়ি না ফেরায় শিশুটির মা চিৎকার করে খুঁজতে থাকেন। মায়ের চিৎকার শুনে পরিত্যক্ত ঘর থেকে শিশুটি ‘মা, মা’ বলে ডাকতে থাকে। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়। পরে শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি কামরাঙ্গী চর থানায় এজাহার হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে থানা পুলিশের মাধ্যমে মামলার তদন্তভার পায় র‌্যাব। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৫ মে র‌্যাব-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং দুই শিশুর বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেন। পরবর্তী সময়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলায় ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন