আ. লীগ নেতার ফিলিং স্টেশনে কালোবাজারে পেট্রোল বিক্রি, আটক ২
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫৪ এএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম খানের মালিকানাধীন রুমি ফিলিং স্টেশনে কালোবাজারে সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মহাদেবপুর এলাকায় অবস্থিত ওই পাম্পে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার এ অভিযান পরিচালনা করেন। অবৈধভাবে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার এস এম বাবুল হাসান এবং ক্রেতা মো. মামুনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলো নিয়মিত তেল সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে প্রতিদিনই যানবাহন ও মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে হচ্ছে। এদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে শিবালয় উপজেলায় মোট চারটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে রুমি ফিলিং স্টেশন এ সংকটের শুরু থেকেই পেট্রোল ও অকটেন নেই বলে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিত।
তবে নারায়ণগঞ্জের তেল ডিপো থেকে নিয়মিত পেট্রোল ওই ফিলিং স্টেশনের নামে কাগজ-কলমে আনা হতো। বিষয়টি নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই) নজরদারি শুরু করে।
অভিযোগ রয়েছে, গত বুধবার রাতে সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল পাম্পে না নামিয়ে উপজেলার টেপড়া এলাকার ‘মামুন ট্রেডার্স’- এর স্বত্বাধিকারী মামুনের কাছে রাতের আঁধারে কালোবাজারে বিক্রি করে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার রুমি ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ ডিপো থেকে পেট্রল আনার প্রমাণ পান। দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার বাবুল হাসান অভিযোগ স্বীকার করেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অপরদিকে, মামুনের তেলের গোড়াউনে অভিযান চালিয়ে ২১ ব্যারেলে সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল পাওয়া যায়। জ্বালানি বিক্রির লাইসেন্স না থাকায় অবৈধভাবে তেল মজুদের অপরাধে তাকেও আটক করা হয়।
পাশাপাশি পেট্রোল ও বহনকারী লরি জব্দ করার নির্দেশ দেন এ কর্মকর্তা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, রুমি ফিলিং স্টেশনের নামে ডিপো থেকে জ্বালানি আনা হলেও তা পাম্পে সরবরাহ না করে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ম্যানেজার ও ক্রেতাকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা পেট্রোল আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, কালোবাজারে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ও ক্রেতার বিরুদ্ধে বিশেষ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জব্দ করা হয়েছে তেল বহনকারী লরিটি।
এসকে/এসএন