নীলফামারী হবে চিকিৎসাসেবার ‘হাব’: স্বাস্থ্য সচিব
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩৮ পিএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, “নীলফামারীতে এয়ারপোর্ট আছে, যা আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে উন্নীত করা সম্ভব। এখানে রেল যোগাযোগ রয়েছে, যা আরো উন্নত হতে পারে। এখানে সড়ক যোগাযোগে মহাসড়ক আছে। সার্বিক যোগাযোগ কাঠামোর সুফল আমরা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।
এছাড়াও এখান থেকে সার্ক অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে বলে মনে করি। সে ক্ষেত্রে এই এলাকাটি চিকিৎসাসেবার ‘হাব’ এবং ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। সেই বিবেচনায় আমরা এই স্থানকে সুপারিশ করেছি।”
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১২টায় নীলফামারীর টেক্সটাইল মাঠে চীনের উপহারে নির্মিতব্য এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, “এই এলাকায় ১৬টি জেলায় প্রায় আড়াই কোটি মানুষ বসবাস করে। আমরা বিভিন্ন জরিপ চালিয়েছি। এখানে ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি—কোন ধরনের রোগীরা ঢাকা, রাজশাহী বিভাগীয় শহর বা দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন।
আমরা লক্ষ্য করেছি, খুলনা অঞ্চল থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী বাইরে চলে যান। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমরা এই স্থান নির্ধারণ করেছি।” তিনি আরও বলেন, “এখানে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মিত হবে। এর মধ্যে ৫০০ শয্যা থাকবে সাধারণ জেনারেল হাসপাতালের জন্য এবং বাকি ৫০০ শয্যা থাকবে বিশেষায়িত হাসপাতালের জন্য। গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং এনএপিডি—এই চারটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে একটি থিমেটিক নকশা প্রণয়ন করবে।
তিনি জানান, গঠিত কমিটির সুপারিশসহ প্রতিবেদন আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচিব বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ আমরা সদর হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি। কীভাবে চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করা যায় এবং এই অঞ্চলের মানুষ কীভাবে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে পারে, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা এটিকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করব।”
নীলফামারী মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের প্রাথমিক বিবেচনা হলো, মেডিকেল কলেজটি যদি চীনের উপহারের হাসপাতালের কাছাকাছি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। সেই বিবেচনায় মেডিকেল কলেজটি ওই এলাকায় স্থাপন করা হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। মেডিকেল কলেজের ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে।”
এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাকিউজ্জামানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।
এবি/টিএ
এবি/টিএ