© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পদ্মা রক্ষাবাঁধ প্রকল্পে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ‘দখলদারি’র অভিযোগ

শেয়ার করুন:
পদ্মা রক্ষাবাঁধ প্রকল্পে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ‘দখলদারি’র অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১৭ পিএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীভাঙন রোধে নির্মাণাধীন রক্ষাবাঁধ প্রকল্পের ব্লক তৈরির সাইটে স্থানীয় বিএনপি নেতার দখলদারি, হুমকি এবং প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নের পৈল্যান মোল্লার কান্দি এলাকায় চলমান ব্লক তৈরির কাজে গত ৬ এপ্রিল দুপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফরাজী ১০-১৫ জন সহযোগী নিয়ে হঠাৎ প্রবেশ করেন। এ সময় তারা প্রথমে এফআইডিএল-ভিনসেন জেবির আওতায় কাজ করা বেঙ্গল কনস্ট্রাকশনের সাইটে গিয়ে নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে তারা পাশের খুলনা শিপইয়ার্ডের অধীনে পরিচালিত আরেকটি ব্লক তৈরির সাইটে গিয়ে কোনো ত্রুটি না পেলেও সেখানে কর্মরত, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সাইটে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার একটি ২ মিনিট ২১ সেকেন্ডের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে অভিযুক্তদের বলতে শোনা যায়, “এখানে যত কাজ হবে আমরা বিএনপির নেতারাই করব, মালামাল আমরাই সরবরাহ করব, বাইরের কেউ এখানে কাজ করতে পারবে না।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তরা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেন এবং ভবিষ্যতে তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ না করার হুমকি দেন।

মারধরের শিকার ত্রিপল এ এন্টার প্রাইজের সিভিল প্রকৌশলী মেহেদী হাসান রাতুল অভিযোগ করে বলেন, “আমি অফিসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন এসে মালামাল নিম্নমানের বলে অভিযোগ করতে থাকে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বললে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। আমি ভিডিও ধারণ করলে তারা আমাকে মারধর করে, শার্ট ছিঁড়ে ফেলে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।”

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা পরে ফেসবুক লাইভে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে।

বেঙ্গল কনস্ট্রাকশনের সাইট প্রকৌশলী শাকিল হাসান সোহাগ বলেন, “তারা আমাদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে নিম্নমানের মালামালের অভিযোগে। এরপর থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে।”

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট একটি সাইটে ব্যবহৃত বালু ও পাথরের মান নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে, যা তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান মাদবর বলেন, “আমি জানতে পেরেছি বিএনপি নেতারা গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন নিম্নমানের সরঞ্জাম দিয়ে কাজ হচ্ছিল।”
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফরাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিম্নমানের সরঞ্জাম দিয়ে কাজ হচ্ছিল, তাই আমরা বাধা দিয়েছি। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি, সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে।”

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত রক্ষায় পূর্বনাওডোবা এলাকায় ধসে পড়া বাঁধ পুনর্নির্মাণে ৩৮৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ২০২৩ সালের অক্টোবরে অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩১টি প্যাকেজে ১১টি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, যার মধ্যে দুটি প্যাকেজের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বাকিগুলো চলমান।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, “মারধরের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে নিম্নমানের সরঞ্জাম দিয়ে কাজের বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি আইনগত ব্যবস্থা নিলে আমরা সহযোগিতা করব।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সহিংসতার অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এমআই/টিকে 

মন্তব্য করুন