© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষোভ, ‘না বুঝে হ্যাঁ বা না বলা অপরাধ’

শেয়ার করুন:
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষোভ, ‘না বুঝে হ্যাঁ বা না বলা অপরাধ’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৪৯ পিএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাসের সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা বিলের কপি সময়মতো হাতে না পাওয়ায় স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, বিলের বিষয়বস্তু না বুঝে সংসদ সদস্য হিসেবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়া অপরাধের শামিল।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের পর বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিন দিন আগে আমাদের ডকুমেন্টসগুলো দেওয়ার কথা ছিল। বাস্তবতা বিবেচনা করে ন্যূনতম এক দিন আগে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিলটি যখন পাস হচ্ছে, তখন টেবিলে আমাদের কাগজ দেওয়া হয়েছে। একদিকে সংসদ চলছে, অন্যদিকে ডকুমেন্টস টেবিলে রাখা। আমরা তো অর্থনীতির ছাত্র নই, তাই এত দ্রুত এগুলো বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। দুর্বল ছাত্র হওয়ার কারণে হাত উপরে তুলব না নিচে নামাব, সেটা বুঝতে পারিনি। না বুঝে ‘হ্যাঁ’ বলা যেমন অপরাধ, না বুঝে ‘না’ বলাও অপরাধ। এই অপরাধবোধ থেকেই আমরা চুপ থেকেছি।

তিনি বলেন, সরকারি দলের সদস্যরা হয়তো সবাই অর্থনীতির ছাত্র এবং অত্যন্ত মেধাবী। তারা কাগজ দেখা মাত্রই বুঝে ফেলেছেন ভেতরে কী আছে। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি, এটা আমাদের অক্ষমতা। এখন আমরা কী করব, আমাদের একটু পরামর্শ দিন।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে এই বিলগুলো পর্যালোচনার সময় বিরোধী দলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাসের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বিল পাস হয়ে যাওয়ার পর এখন কিছু বুঝলাম না বলা সাজে না।

তবে আলোচনার জন্য স্পিকার যথেষ্ট সময় দিয়েছেন এবং সহযোগিতার জন্য তিনি বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানান।

জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বিশেষ কমিটিতে এমন কোনো কথা হয়নি যে সংসদ চলাকালীন টেবিলে বিলের কপি দেওয়া হবে। বিলের কপি অন্তত তিন দিন আগে দেওয়ার নিয়ম ছিল। সংসদে বিল নিয়ে কথা বলা তাদের অধিকার এবং সেই সুযোগ থাকা উচিত ছিল।

বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী সংসদকে জানান, অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সরকার সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটায়নি।

তিনি সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী তিনটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, সংসদ শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উপস্থাপন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা আমরা যথাযথভাবে পালন করেছি। দ্বিতীয়ত, আমরা কোনগুলো উপস্থাপন করব এবং কোনগুলো করব না, সেই এখতিয়ার সরকারের রয়েছে। যেগুলো উপস্থাপন করা হয়নি, সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী বাতিল বা ল্যাপস হয়ে যাবে।

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, যে অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপিত হয় না, সেগুলোর ওপর আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে, যেগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো বিল আকারে অনুমোদিত হয়েছে। যদি কোনো বিল পাস না হতো, তবে তা ‘অনুনমোদন’ হিসেবে গণ্য হয়ে বাতিল হয়ে যেত।

বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই সবগুলো বিল উত্থাপন ও পাস করা হয়েছে এবং এতে আইনি কোনো ত্রুটি নেই।

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন