ইসলামাবাদে বসার আগেই জব্দ সম্পদ ফেরত চাইল ইরান
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৩ পিএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তি- এই দুটি বিষয় বাস্তবায়ন করা না হলে কোনো আলোচনা শুরু হবে না।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে আগে যে সমঝোতা হয়েছিল, তার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘লেবাননে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার আগে ইরানের ব্লক হয়ে থাকা সম্পদ মুক্ত করা- এই দুটি বিষয় পূরণ করতেই হবে।’
শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেবেন গালিবাফ নিজেই।
দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার পর দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। এর পর থেকেই ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন, যার ফলে ইরানের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক সম্পদ বিদেশে আটকে থাকে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান মনে করে, এই সংঘাত বন্ধে কার্যকর যুদ্ধবিরতি না হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না, যা যেকোনো কূটনৈতিক আলোচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার আগে শর্ত আরোপ করে ইরান কূটনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। অবরুদ্ধ সম্পদ ফেরত পেলে ইরানের অর্থনীতি কিছুটা স্বস্তি পাবে, আর লেবাননে যুদ্ধবিরতি হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমবে, যা আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই শর্তগুলো কতটা গ্রহণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে ইসলামাবাদের সম্ভাব্য বৈঠক শেষ পর্যন্ত কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এমআর/টিকে